দেশে হামের টিকা সংকট নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে একাধিকবার আগাম সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ। সংস্থাটির বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স জানিয়েছেন, ২০২৪ সাল থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি চিঠি পাঠানো হয়েছিল এবং এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে অন্তত ১০টি বৈঠক করা হয়।
বুধবার এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, কোনো মহামারি হঠাৎ করে তৈরি হয় না। বিশেষ করে টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য রোগের ক্ষেত্রে আগাম সংকেত থাকে এবং বাংলাদেশেও সেই সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল।
রানা ফ্লাওয়ার্স জানান, ইউনিসেফ আগেই আশঙ্কা করেছিল যে টিকার ঘাটতি তৈরি হলে পরবর্তী দুই বছরে বিভিন্ন সংক্রামক রোগের প্রভাব বাড়তে পারে। সে কারণে সরকারকে বারবার সতর্ক ও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, টিকা ক্রয় সাধারণ ওষুধ কেনার মতো নয়। এটি অত্যন্ত বিশেষায়িত একটি প্রক্রিয়া, যেখানে শুধু কম দাম নয়; বরং নিরাপদ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত টিকা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা কেনার সিদ্ধান্তের কারণে ক্রয় প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হয় বলেও উল্লেখ করেন ইউনিসেফের এই কর্মকর্তা।
তবে এখন কাউকে দোষারোপ না করে ভবিষ্যতে যাতে কোনো শিশু প্রতিরোধযোগ্য রোগে মারা না যায়, সে লক্ষ্যে কার্যকর টিকাদান কর্মসূচি চালুর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

