মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ভারতে ঈদগাহে নামাজের অনুমতি পাওয়া যাচ্ছে না, আতঙ্কে মুসলিমরা

ডেস্ক রিপোর্ট।।

ভারতের উত্তর প্রদেশসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ঈদুল আজহার নামাজ আয়োজন ঘিরে বাড়ছে প্রশাসনিক কড়াকড়ি ও সামাজিক উত্তেজনা। বিশেষ করে খোলা জায়গা ও সড়কে নামাজ আদায় নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

উত্তর প্রদেশের মিরাট জেলার মালিয়ানা গ্রামে ঈদের প্রস্তুতি এখন আর শুধু ধর্মীয় আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। স্থানীয় মসজিদ কমিটিগুলো মুসল্লিদের সতর্ক করে দিচ্ছে যেন তারা মসজিদের বাইরে ভিড় না করেন, রাস্তার ওপর দাঁড়ানো এড়িয়ে চলেন এবং কোনো ধরনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া না জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোলা জায়গায় নামাজ না পড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অনেক মুসল্লি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বা অভিযোগের কারণে অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন।

২০১৪ সালে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে রাস্তা বা উন্মুক্ত স্থানে মুসলিমদের নামাজ আদায় নিয়ে বিতর্ক ক্রমেই বেড়েছে। হিন্দুত্ববাদী কয়েকটি সংগঠন দাবি করে আসছে, জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় নামাজের কারণে যানজট ও নিরাপত্তা সমস্যা সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে মুসলিমদের দাবি, জনসংখ্যার তুলনায় পর্যাপ্ত মসজিদ বা ঈদগাহ না থাকায় অনেক সময় সাময়িকভাবে খোলা জায়গা ব্যবহার করা ছাড়া বিকল্প থাকে না।

সম্প্রতি উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ঈদের নামাজ “শিফটে” আয়োজনের পরামর্শ দেন। তাঁর বক্তব্যকে ঘিরে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেকেই আশঙ্কা করছেন, নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

মিরাট, আলিগড়, সাহারানপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় মসজিদ কমিটিগুলো এবার ঈদের জামাত ছোট ছোট দলে আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। কোথাও মুসল্লিদের দ্রুত স্থান ত্যাগ করতে বলা হচ্ছে, আবার কোথাও স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হয়েছে যাতে কেউ সাময়িকভাবেও রাস্তার ওপর অবস্থান না করেন।

স্থানীয়দের মতে, পরিস্থিতির মানসিক প্রভাবও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। অনেক পরিবার তরুণদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে বলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়া বা ভুল অভিযোগে জড়ানোর আশঙ্কাও বাড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রকাশ্যে নামাজ নিয়ে চলমান বিতর্ক আসলে ভারতের জনপরিসরে ধর্মীয় পরিচয় ও উপস্থিতি নিয়ে বৃহত্তর সামাজিক-রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতিফলন। সমালোচকদের অভিযোগ, একদিকে মুসলিম ধর্মীয় সমাবেশের ওপর কড়াকড়ি বাড়ানো হচ্ছে, অন্যদিকে বড় হিন্দু ধর্মীয় আয়োজনগুলো প্রশাসনিক সহায়তা পাচ্ছে—যা বৈষম্যের অনুভূতি তৈরি করছে।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এসব পদক্ষেপ শুধুমাত্র জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া হচ্ছে।

ঈদ সামনে রেখে বাজার, দর্জির দোকান ও কেনাকাটায় ব্যস্ততা থাকলেও অনেক মুসলিম পরিবারের মধ্যে এবার উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি অনিশ্চয়তা ও সতর্কতার আবহও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন