মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
Logo

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে পশ্চিমবঙ্গে নিহত ৮

ডেস্ক রিপোর্ট।।

কলকাতায় ঘণ্টায় ৮৮ কিমি বেগে ঝড়, উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছ; নিহতদের পরিবারকে ৪ লাখ রুপি করে সহায়তার ঘোষণা

পশ্চিমবঙ্গে কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাতে অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে আঘাত হানা প্রবল ঝড়-বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে বহু গাছ উপড়ে পড়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো। এর ফলে রেল ও বিমান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র যানজট দেখা দেয়।

আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কলকাতায় ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার। ঝড়ের তাণ্ডবে রাসবিহারী, রবীন্দ্র সরোবর, নেতাজি নগর, টালিগঞ্জ, পার্ক স্ট্রিটসহ মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ে এবং যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে কলকাতা পৌরসভা, পুলিশ ও দমকল বাহিনীর কর্মীরা উদ্ধার ও পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঝড়ের কারণে শিয়ালদহ ও হাওড়া শাখার বিভিন্ন রুটে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। অনেক স্থানে গাছপালা ভেঙে ওভারহেড তারের ওপর পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। একই সঙ্গে কলকাতা বিমানবন্দরেও কিছু সময়ের জন্য বিমান ওঠানামা সীমিত রাখা হয়।

কলকাতায় ঝড়জনিত ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ওভারহেড লাইনে গাছের ডাল পড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে চেতলা এলাকায় একটি দেয়াল ধসে পড়ে রবিন কুমার ঠাকুর নামে এক ব্যক্তি নিহত হন।

সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে পুরুলিয়া জেলায়। সেখানে বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু এবং দুইজন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন চৈতন্য ধীবর (৫৬), শেখ ছোটু (২৫) ও কৃষক নিমাই চন্দ্র গড়াই (৪৫)।

পশ্চিম মেদিনীপুরে ঝড়ের সময় রূপক চইড়া ও অয়ন গোস্বামী নামে নবম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ঝাড়গ্রামে বজ্রপাতে মুক্তিপদ পাল (৫৯) নামে এক ব্যক্তির প্রাণহানি ঘটে। হুগলি জেলায় ঝড়-বৃষ্টির পর থেকে এক মৎস্যজীবী নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

রাজ্য প্রশাসন জানিয়েছে, ঝড়-বৃষ্টিতে কলকাতাসহ একাধিক জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে চার লাখ রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে নাগরিকদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার সময় নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন