বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

দেশের ৮ বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ সরকারের

ডেস্ক রিপোর্ট।।

দেশের দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ও অব্যবহৃত বিমানবন্দরগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রাথমিকভাবে আটটি বিমানবন্দরকে এ পরিকল্পনার আওতায় আনা হয়েছে, যার মধ্যে বগুড়া ও ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ এবং যাত্রীসেবার পরিধি বাড়াতে পর্যায়ক্রমে এসব বিমানবন্দর সচল করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বগুড়ায় আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত প্রস্তাব বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) বোর্ড সভায় অনুমোদন পেয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বগুড়া বিমানবন্দরে ১০ হাজার ৫০০ ফুট দীর্ঘ রানওয়ে নির্মাণ করা হবে, যাতে আধুনিক যাত্রীবাহী ও কার্গো উড়োজাহাজ অবতরণ করতে পারে। প্রকল্পে নতুন টার্মিনাল ভবন, কন্ট্রোল টাওয়ার, কার্গো সুবিধা এবং আধুনিক নেভিগেশন প্রযুক্তি সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে নকশা ও কারিগরি সমীক্ষার কাজ এগিয়ে নিতে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।

অন্যদিকে, দীর্ঘদিন অচল থাকা ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর পুনরায় চালুর উদ্যোগও জোরদার করা হয়েছে। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে বিমানবন্দরটিকে আধুনিকায়নের জন্য ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় রানওয়ে সম্প্রসারণ, নতুন টার্মিনাল নির্মাণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সুবিধা স্থাপনের কথা ভাবা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বগুড়া ও ঠাকুরগাঁও ছাড়াও লালমনিরহাট, ঈশ্বরদী, কুমিল্লা, শমশেরনগর, খানজাহান আলী ও পটুয়াখালী বিমানবন্দর পুনরায় চালুর সম্ভাবনাও যাচাই করা হচ্ছে। সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও যাত্রী চাহিদার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রীতা বলেছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় বিমানবন্দরগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে আঞ্চলিক অর্থনীতি, পর্যটন ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমানবন্দরগুলো সচল হলে দেশের উত্তরাঞ্চল ও অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ আরও সহজ হবে। তবে প্রকল্পগুলোর দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে যাত্রী চাহিদা, বাণিজ্যিক সম্ভাবনা এবং টেকসই পরিচালনা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন