বর্তমান সময়ে ব্যক্তিগত ও পেশাগত যোগাযোগের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপ। প্রতিদিন এই প্ল্যাটফর্মে বিপুল পরিমাণ বার্তা, ছবি, ভিডিও ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদান-প্রদান হয়। ফলে স্মার্টফোন পরিবর্তন, হারিয়ে যাওয়া বা প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে এসব তথ্য হারানোর ঝুঁকি এড়াতে অনেকেই নিয়মিত চ্যাট ব্যাকআপ করে থাকেন।
তবে অনেক সময় ব্যাকআপ বা রিস্টোর প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধরনের জটিলতা দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে কয়েকটি সহজ পদক্ষেপ অনুসরণ করলেই সমস্যার সমাধান পাওয়া যেতে পারে।
প্রাথমিক কিছু বিষয় যাচাই করুন
ব্যাকআপ বা রিস্টোর আটকে গেলে প্রথমেই ফোনটি রিস্টার্ট করে দেখতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে সাময়িক সফটওয়্যার সমস্যার কারণে এ ধরনের জটিলতা তৈরি হয়।
ইন্টারনেট সংযোগও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দুর্বল ওয়াই-ফাই ব্যবহার করলে সংযোগ পুনরায় চালু করা বা অন্য কোনো নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রয়োজনে মোবাইল ডেটা ব্যবহার করেও চেষ্টা করা যেতে পারে।
এছাড়া ফোনে পর্যাপ্ত স্টোরেজ এবং পর্যাপ্ত ব্যাটারি চার্জ রয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজন হলে অপ্রয়োজনীয় ফাইল মুছে জায়গা খালি করুন এবং ফোন চার্জে রেখে ব্যাকআপ প্রক্রিয়া চালান।
গুগল প্লে সার্ভিসেস আপডেট রাখুন
অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যাকআপ সাধারণত গুগল ড্রাইভের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তাই পুরোনো সংস্করণের গুগল প্লে সার্ভিসেস ব্যবহারের কারণে ব্যাকআপে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এক্ষেত্রে ফোনের সেটিংস থেকে গুগল প্লে সার্ভিসেস অ্যাপটি সর্বশেষ সংস্করণে আপডেট করার পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রয়োজন হলে হোয়াটসঅ্যাপ আনইনস্টল করে পুনরায় ইনস্টল করেও চেষ্টা করা যেতে পারে।
এরর মেসেজ দেখালে যা করবেন
ব্যাকআপের সময় কোনো ত্রুটি বার্তা দেখা দিলে প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপের প্রয়োজনীয় পারমিশনগুলো সক্রিয় আছে কি না তা পরীক্ষা করুন। বিশেষ করে স্টোরেজ, ছবি ও ভিডিও ব্যবহারের অনুমতি চালু থাকা জরুরি।
এছাড়া গুগল অ্যাকাউন্টের সিঙ্ক অপশন চালু আছে কি না তা নিশ্চিত করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্ট পুনরায় যুক্ত করলেও সমস্যা সমাধান হয়ে যায়।
ব্যাকআপ ফাইল ক্ষতিগ্রস্ত হলে
সব ধরনের চেষ্টা ব্যর্থ হলে ব্যাকআপ ফাইলটি ক্ষতিগ্রস্ত বা ‘করাপ্টেড’ হয়ে থাকতে পারে। সাধারণত ব্যাকআপ চলাকালে ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হওয়া, অ্যাপ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া বা ত্রুটিপূর্ণ ফাইলের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাকআপ ফাইল অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয় না। তাই নিয়মিত ব্যাকআপ নেওয়ার সময় স্থিতিশীল ও দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

