আপাতদৃষ্টিতে সমাজে তাকে দেখলে মনে হবে একজন অত্যন্ত সজ্জন এবং ধার্মিক মানুষ। মাথায় টুপি, মুখে দাড়ি, নিয়মিত হজ করে আসা এবং পেশায় একজন আইনের লোক—‘অ্যাডভোকেট’। কিন্তু এই ধর্মীয় ও সামাজিক মুখোশের আড়ালে Buckingham প্রাসাদসম অপরাধের সাম্রাজ্য লুকিয়ে রেখেছে এক ভয়ঙ্কর লেভেলের অপরাধী, ড্রাগ অ্যাডিক্ট এবং ব্ল্যাকমেইলার। যার মূল কাজ মানুষকে ট্র্যাপে ফেলে টাকা-পয়সা ও ইজ্জত-সম্মান হাতিয়ে নেওয়া। এই পৈশাচিক চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তির নাম ইমরান শোয়েব। সম্প্রতি তার প্রথম স্ত্রী *নাহার কলি*র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ভিডিও বার্তার সূত্র ধরে অনুসন্ধানে নেমে সাবাহ- ‘জিরো আওয়ার’ টিম পেয়েছে গা শিউরে ওঠার মতো সব ভয়ঙ্কর তথ্য।
বিয়ের নামে ট্র্যাপ ও মাদকের আখড়া:
*নাহার কলি*র অভিযোগ, তাকে জোরপূর্বক বিভিন্নভাবে ট্র্যাপে ফেলে প্রথম স্বামীর সংসার থেকে বিচ্ছিন্ন করে বিয়ে করে ইমরান। বিয়ের পর পরই খসে পড়ে ইমরানের মুখোশ। কলির সমস্ত স্বর্ণালংকার কেড়ে নিয়ে নিজের মাদকের পেছনে খরচ করতে শুরু করে সে। ইমরান শুধু নিজেই মাদকাসক্ত নয়, সে তার নিজের ঘরেই গড়ে তুলেছিল ইয়াবা, গাঁজা আর মদের আখড়া। যেখানে নিয়মিত যাতায়াত ছিল তার মুহুরি মুক্তার, মাসুদসহ বেশ কয়েকজন বন্ধুর। আর এই ভয়ঙ্কর পরিবেশের মধ্যেই একই বাসায় বন্দি থাকতে বাধ্য হতো তাদের দুটি নিষ্পাপ সন্তান—৮ বছরের ছেলে নাঈম এবং ৫ বছরের মেয়ে নূর। অবুঝ শিশুদের চোখের সামনেই প্রতিদিন চলত এই মাদকের উৎসব। মাদকের টাকা না পেলে কলিকে বেল্ট দিয়ে ঝুলিয়ে শরীরের অভ্যন্তরীণ ও সংবেদনশীল অঙ্গে আঘাত করে ক্ষতবিশত করে দিত এই ইমরান। এমনকি মাদকের টাকার জন্য নিজের বন্ধু আকতারের শয্যাসঙ্গী হতেও স্ত্রীকে বাধ্য করার চেষ্টা করে সে।
পাল্টা অভিযোগ ও ইমরানের ধৃষ্টতা:
অনুসন্ধানের স্বার্থে সাবাহ- ‘জিরো আওয়ার’ টিম সরাসরি অভিযুক্ত ইমরান শোয়েবের মুখোমুখি হলে ক্যামেরার সামনেই তার চরম ঔদ্ধত্য দেখা যায়। সাংবাদিকদের তোয়াক্কা না করে অবলীলায় ধূমপান করতে করতে সে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে পাল্টা পরকীয়ার অভিযোগ তোলে। ইমরান দাবি করে, তার স্ত্রী সন্তানদের রেখে ‘মিসবাহ’ নামের এক যুবকের সাথে রাত কাটাতো এবং মার্চ মাসের পর থেকে তিনবার পালিয়ে গেছে।
তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, টিকটকের সূত্রে পরিচয় হওয়া মিসবাহ মূলত কলির ওপর হওয়া এই পৈশাচিক নির্যাতনের কথা জানতে পেরে তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। কলির আকুতি শুনে মিসবাহ একদিন সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ইমরানের মাদকের আড্ডায় পাঠালে আর্মি ইমরানকে মারধর করে এবং তার এক সহযোগীকে গ্রেফতার করে। তবে সে যাত্রায় বাচ্চাদের দোহাই দিয়ে এবং আর এমন না করার মুচলেকা দিয়ে পার পেয়ে যায় চতুর ইমরান।
হাসপাতালের অত্যাচারের পর নিয়ে যাওয়ার রেকর্ড ও চরম বিকৃতি :
মুক্ত পেয়ে ইমরানের নির্যাতনের মাত্রা আরও দ্বিগুণ হয়ে যায়। গত ঈদের রাতে কলিকে এমনভাবে মারধর করা হয় যে, তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়, যার পুলিশ কেস রেকর্ড আজও বিদ্যমান। এই চরম মুহূর্তে প্রাণ বাঁচাতে এবং সন্তানদের একটা নিরাপদ আশ্রয় দিতে কলি মিসবাহর সাহায্য নিয়ে ওই বাসা ছাড়েন এবং বর্তমানে নারায়ণগঞ্জে একটি ভাড়া বাসায় আত্মগোপনে আছেন।
কলি চলে যাওয়ার কিছুদিন পরই ইমরান ঘরে নিয়ে আসে সুমি নামের দুই সন্তানের এক জননীকে। অনুসন্ধানে জানা যায়, সুমি মূলত ইমরানের কাছে মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে এসেছিল এবং কলি থাকা অবস্থাতেই তাদের অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বর্তমানে সুমি ও ইমরান একসাথেই সেই বাসায় মাদক সেবন করছে।
সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় হলো, কলির আগের সংসারের একটি কন্যাসন্তান (রিয়া) রয়েছে। ইমরান নিজের বিকৃত যৌনলালসা মেটাতে রিয়াকে নিজের কাছে এনে দেওয়ার জন্য কলিকে ক্রমাগত চাপ দিতে থাকে। একজন মা হয়ে নিজের মেয়ের জীবনের এই চরম হুমকি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি কলি।
স্ত্রীর নগ্ন ছবি ছড়ানো ও ব্ল্যাকমেইল:
কলি পালিয়ে যাওয়ার পর ইমরান তার অপরাধ ঢাকতে এক চরম নোংরা খেলায় মেতে ওঠে। সে দাবি করে কলি নাকি ৫ বস্তা মালামাল আর সোনার গহনা নিয়ে পালিয়ে গেছে, যার কোনো প্রমাণ সে দিতে পারেনি। উল্টো কলিকে ভয় দেখিয়ে একটি ভিডিও রেকর্ড করায়, যেখানে কলি বলতে বাধ্য হন যে তিনি ইমরানকে ‘স্লো পয়জনিং’ করছিলেন। শুধু তাই নয়, সুমি যখন ফেসবুকে ইমরানের বিরুদ্ধে ভিডিও বার্তা দেয়, তখন ইমরান ক্ষিপ্ত হয়ে নিজের স্ত্রীর সাথে কাটানো একান্ত মুহূর্তের নগ্ন ছবি ও ভিডিও বিভিন্ন মিডিয়া নিউজের কমেন্ট সেকশনে প্রকাশ্যে শেয়ার করে চরম চরিত্রহনন শুরু করে।
আত্মীয়-স্বজন ও সমাজের ওপর আতঙ্ক :ইমরানের এই অপরাধের জাল শুধু তার স্ত্রীর ওপরই সীমাবদ্ধ নয়। তার নিজের মামাতো বোন থেকে শুরু করে এলাকার সাধারণ নারীরাও তার কাছে নিরাপদ ছিল না। আইনি সহায়তার নামে কোনো নারী তার কাছে এলে, কৌশলে তাদের গোপন ছবি বা ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল ও বারবার ধর্ষণ করাই ছিল তার পেশা। এমনকি নিজের মামাদের ব্ল্যাকমেইল করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সে। আদালতে কোনো মামলা এলে বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষকে ঝুলিয়ে রেখে নিজের স্বার্থ হাসিল করত এই তথাকথিত আইনজীবী। আর তার এই সমস্ত অপরাধের পেছনে ক্ষমতার খুঁটি হিসেবে কাজ করত সাবেক মন্ত্রী দীপু মনির নাম এবং ছাত্রলীগ কর্মী পারভেজ, ফরহাদসহ কিছু রাজনৈতিক প্রভাব।
কেঁদে মরছে নিষ্পাপ শিশুরা: মায়ের আকুল আবেদন
সোশ্যাল মিডিয়ায় ইমরান বাচ্চাদের আদর করার নানা ভিডিও পোস্ট করে নিজেকে একজন আদর্শ বাবা হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করলেও, এগুলো আসলে তার পৈশাচিক অপরাধ ঢাকার এক নির্মম কৌশল মাত্র। ইমরান বর্তমানে বাচ্চাদের মারধর করছে এবং কলিকে ফিরে আসার জন্য তাদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। কলিকে প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়া হচ্ছে—বাসায় না ফিরলে ৫ বছরের নূর আর ৮ বছরের নাঈমের ওপর আরও চরম নির্যাতন চালানো হবে।
১০ বছর ধরে এই ইমরানের কারণে নিজের মা-বাবার থেকে আলাদা থাকা অসহায় মা নাহার কলি আজ শুধু তার সন্তানদের ফিরে পাওয়ার আকুলুতি জানাচ্ছেন। নাহার কলি সাবাহ সতর্কতার মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে জোরালো দাবি জানিয়েছেন যেন এই মাদকাসক্ত, বিকৃত মস্তিস্কের ইমরান এবং তার সহযোগী সুমি, মুক্তার, আকতারদের হাত থেকে তার দুই সন্তানকে দ্রুত উদ্ধার করা হয়। মায়ের একমাত্র ইচ্ছা, এই নরপিশাচের কবল থেকে মুক্ত করে সন্তানদের নিজের কাছে নিয়ে বাকি জীবনটা নিরাপদে কাটানো।
মাদকাসক্ত ও ছদ্মবেশী অপরাধী ইমরানের এই সিন্ডিকেটের হাত থেকে কি রক্ষা পাবে নিষ্পাপ দুটি শিশু? প্রশাসন কি ফিরিয়ে দেবে মায়ের কোল? সমাজ ও প্রশাসনের কাছে আজ এই প্রশ্নই রাখছে ‘সাবাহ সতর্কতা’।
আসছে বিস্তারিত! সাবাহ- ‘জিরো আওয়ার’ এ …!

