মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
Logo

আমি মুখ খুললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে: হাদি হত্যা প্রসঙ্গে মমতা

ডেস্ক রিপোর্ট।।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির ধাক্কা কাটতে না কাটতেই এবার আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি এবং দলীয় কোন্দল নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার কলকাতার ধর্মতলার ‘ওয়াই চ্যানেল’-এ আয়োজিত এক ধরনা কর্মসূচি থেকে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের আলোচিত ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিদের আড়াল করতে খোদ ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাকে ফোন করে চাপ দিয়েছিলেন।

নির্বাচনী বিপর্যয়ের প্রায় এক মাস পর প্রথম রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন:

“বাংলাদেশ থেকে একটা বড় খুনি মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসে। আমাদের রাজ্য পুলিশের এসটিএফ (STF) তাদের গ্রেপ্তার করে। কিন্তু তারপর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজে আমাকে ফোন করে বলেন, এটা যেন বাইরে না যায়, কারণ এটা দেশের ব্যাপার।”

অমিত শাহকে সরাসরি নিশানা করে মমতা প্রশ্ন তোলেন, “কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়েছিল?” তবে দেশের স্বার্থে এবং বাংলাদেশের প্রতি ভালোবাসার কারণে তিনি ঘাতকদের নাম এখনই প্রকাশ করছেন না বলে জানান।

তার অভিমত, ‘এতদিন আমি বলিনি। কিন্তু আজকে অত্যাচারে শেষ সীমায় গেছে বলে আমাকে মুখ খুলতে হয়েছে। আমি সেই নামটা বলতে চাইছি না, বললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে। আমি বাংলাদেশকে ভালবাসি। দেশের স্বার্থে ওই নাম আমি বলব না।’

দিল্লি ও বিজেপির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভয় দেখিয়ে দল ভাঙার অভিযোগ তুললেও, মমতার নিজের রাজনৈতিক মঞ্চের ভেতরের চিত্রটা ছিল বেশ ছন্নছাড়া। ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জনই বর্তমানে বিদ্রোহী শিবিরে। মঙ্গলবারের এই হাই-প্রোফাইল ধরনায় দলনেত্রীর পাশে দেখা গেছে মাত্র ৬ জন বিধায়ককে।

ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, মহারাষ্ট্রের শিবসেনা বা এনসিপি-র মতোই বড়সড় ভাঙন ধরতে যাচ্ছে তৃণমূলে। বিজেপি নেতা তাপস রায়ের একটি ফেসবুক পোস্ট এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে প্রায় ৫০ জন বিধায়ককে সাথে নিয়ে বিধানসভার স্পিকারের দিকে পা বাড়িয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত ব্যানার্জি।

তৃণমূলের এই করুণ দশা নিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কটাক্ষ করে বলেন, “সাংবাদিকদের বাদ দিলে দেড়শ লোকও আসেনি।” সব মিলিয়ে, একদিকে আন্তর্জাতিক মার্ডার মিস্ট্রিতে দিল্লির যোগসাজশের অভিযোগ, অন্যদিকে ঘরের ভেতরে তীব্র ভাঙনের সুর— দুইয়ে মিলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি এখন চরম উত্তপ্ত।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন