ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে এক ফোনালাপে ‘পাগল’ বলেছিলেন বলে স্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি দাবি করেছেন, মন্তব্যটি রাগের বশে নয়, বরং নেতানিয়াহুর কিছু সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয়ে করেছিলেন।
গতকাল বুধবার সম্প্রচারিত ‘পোড ফোর্স ওয়ান’ পডকাস্টে ট্রাম্প বলেন, লেবাননে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে তিনি নেতানিয়াহুর প্রতি বিরক্ত ছিলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, আমি তাকে পাগল বলেছিলাম। কিন্তু সেটা রাগ থেকে নয়। আমি মূলত বোঝাতে চেয়েছিলাম যে, এই পরিস্থিতি থামানো দরকার।”
গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। এ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেই দুই নেতার মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ আলোচনা হয়েছে বলে জানা যায়।
মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এক ফোনালাপে ট্রাম্প নেতানিয়াহুর প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। তবে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নেতানিয়াহু বলেছেন, দুই নেতার মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও তাদের সম্পর্ক অটুট রয়েছে।
মঙ্গলবার এক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, “আমাদের লক্ষ্য অভিন্ন। কখনও কখনও কিছু বিষয়ে মতবিরোধ হয়, যা ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ক্ষেত্রেও স্বাভাবিক।”
তিনি আরও বলেন, “হোয়াইট হাউসে যারা দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের মধ্যে ট্রাম্প ইসরায়েলের অন্যতম বড় বন্ধু। আমরা একে অপরকে সম্মান করি এবং মতপার্থক্য সত্ত্বেও একসঙ্গে কাজ করতে পারি।”
পডকাস্টে ট্রাম্পকে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে সামরিক পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ওই সিদ্ধান্ত তার নিজের নেতৃত্বেই নেওয়া হয়েছিল। তার ভাষ্য, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া যায় না এবং এ কারণেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইসরায়েলের নিরাপত্তা রক্ষায় তার প্রশাসনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
সূত্র: রয়টার্স

