গ্রীষ্মকালীন জনপ্রিয় ফল জামের পাশাপাশি এর বিচিও দীর্ঘদিন ধরে ভেষজ উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে জামের বিচির গুঁড়ার সম্ভাব্য উপকারিতা নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাদের হৃদরোগ রয়েছে বা নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন, তাদের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সম্ভাব্য উপকারিতা
জামের বিচিতে এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
- রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।
- অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান থাকায় কোষের ক্ষতি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
- কম গ্লাইসেমিক বৈশিষ্ট্যের কারণে রক্তে শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
হার্টের রোগীদের কেন সতর্ক থাকতে বলা হয়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি বা যারা নিয়মিত রক্ত পাতলা করার ওষুধ (ব্লাড থিনার) সেবন করেন, তাদের যেকোনো ভেষজ উপাদান গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
- কিছু ভেষজ উপাদান ওষুধের কার্যকারিতার সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
- রক্তচাপ বা রক্তে শর্করার মাত্রায় অতিরিক্ত পরিবর্তন ঘটলে জটিলতা দেখা দিতে পারে।
- হৃদরোগ, স্ট্রোক বা উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ক্ষেত্রে স্বেচ্ছায় অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
চিকিৎসকদের মতে, জামের বিচিকে ওষুধের বিকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়। ডায়াবেটিস বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা এটি নিয়মিত খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেবেন।
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণই ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

