রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

মায়ের প্রতি সম্মান জানানো সন্তানের জন্য নবীজির সুসংবাদ

ডেস্ক রিপোর্ট।।

ইসলাম মা-বাবার প্রতি সদাচরণ ও সম্মান প্রদর্শনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে। তবে সন্তান লালন-পালনে মায়ের অসামান্য ত্যাগ ও কষ্টের কারণে ইসলামে মায়ের মর্যাদাকে বিশেষভাবে উচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত করা হয়েছে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “আমি মানুষকে তার মা-বাবার সঙ্গে সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা কষ্টের পর কষ্ট ভোগ করে তাকে গর্ভধারণ করেছে এবং দুই বছরে তার দুধ ছাড়ানো হয়।” (সুরা লোকমান: ১৪)

ইসলামি শিক্ষায় মায়ের অবদানকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। গর্ভধারণ, সন্তান প্রসব, দুগ্ধপান করানো এবং রাত জেগে সন্তানের পরিচর্যার মতো কঠিন দায়িত্ব মা-ই পালন করেন। এ কারণেই কোরআন ও হাদিসে মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সম্মান প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সুরা আহকাফের ১৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা মানুষের প্রতি মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং তাদের জন্য কল্যাণ কামনার শিক্ষা দিয়েছেন। একই সঙ্গে নেক আমল ও তওবার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) মা-বাবার মর্যাদা সম্পর্কে বলেছেন, “মা-বাবাই হলো তোমার জান্নাত এবং জাহান্নাম।” (সুনানে ইবনে মাজাহ)

অন্য এক হাদিসে এসেছে, অনুগত সন্তান যখন ভালোবাসা ও সম্মানের দৃষ্টিতে মা-বাবার দিকে তাকায়, তখন আল্লাহ তার জন্য হজের সওয়াব দান করেন।

মায়ের মর্যাদা সম্পর্কে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হাদিসে এক সাহাবি রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তার সদাচরণের সবচেয়ে বেশি অধিকারী কে। উত্তরে মহানবী (সা.) পরপর তিনবার “তোমার মা” এবং চতুর্থবার “তোমার পিতা” বলেছেন। (সহিহ বুখারি)

ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, এই হাদিস মায়ের প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্যের গুরুত্বকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। তারা বলেন, মায়ের সেবা, সম্মান এবং সন্তুষ্টি অর্জনের মধ্যেই একজন মুসলমানের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ নিহিত রয়েছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন