মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
Logo

আবারো পাল্টাপাল্টি হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

ডেস্ক রিপোর্ট।।

উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় দুই দেশের মধ্যকার নাজুক যুদ্ধবিরতি আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর দিকে অগ্রসর হওয়া ইরানের চারটি একমুখী হামলাকারী ড্রোন ভূপাতিত করেছে তাদের বাহিনী। ওয়াশিংটনের দাবি, ড্রোনগুলো আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য তাৎক্ষণিক ঝুঁকি তৈরি করেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের গোরুক ও কেশম দ্বীপে অবস্থিত উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্থাপনায় হামলা চালানো হয়।

অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন হামলার জবাবে কুয়েতে অবস্থিত দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে তেহরান।

সেন্টকমের প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরানের ছোড়া সাতটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ছয়টি আকাশেই প্রতিহত করা হয়েছে এবং বাকি একটি নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে।

এর আগে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় একজন নিহত এবং অন্তত ৬০ জন আহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ওই হামলার দায় অস্বীকার করে বলেছে, মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে হামলাকে ‘পরিকল্পিত ও অযৌক্তিক’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, কেশম দ্বীপ এবং একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবেই উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক হামলার পর শুরু হওয়া আঞ্চলিক সংঘাত এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও উদ্বেগ বাড়ছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন