লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে একটি সামরিক যানবাহনে ইসরায়েলি হামলায় দেশটির এক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, এক ক্যাপ্টেন এবং এক সৈনিক নিহত হয়েছেন। শনিবার (৬ জুন) নাবাতিয়েহ অঞ্চলে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী।
লেবাননের সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, কাফার তেবনিত ও খারদালি এলাকার মধ্যবর্তী সড়কে চলাচলরত একটি সামরিক গাড়িকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা, একজন ক্যাপ্টেন এবং এক সেনাসদস্য নিহত হন।
ঘটনার পর এক বিবৃতিতে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী হামলাটিকে “আক্রমণাত্মক ও বর্বর অভিযান” হিসেবে উল্লেখ করে এর নিন্দা জানায়।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, হামলার শিকার গাড়িটি সন্দেহজনকভাবে সেনাদের অবস্থানের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। একই এলাকায় গোলাগুলির ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছে তারা।
আইডিএফের ভাষ্য, গাড়িটি এমন একটি এলাকায় চলাচল করছিল যা পূর্বে খালি করা যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত এবং যেখানে হিজবুল্লাহ কার্যক্রম পরিচালনা করে বলে তাদের ধারণা। ইসরায়েলি বাহিনী আরও দাবি করেছে, তাদের অভিযান লেবাননের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নয়, বরং হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করেই পরিচালিত হচ্ছে।
গত মার্চ থেকে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়েছে। দক্ষিণ লেবানন থেকে হিজবুল্লাহর রকেট ও ড্রোন হামলার জবাবে ইসরায়েল ধারাবাহিক সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছে, লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার না হলে ওই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে না।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতির অন্যতম পূর্বশর্ত ছিল লেবাননসহ সংশ্লিষ্ট সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা। একই সঙ্গে তারা লেবাননে হামলা বন্ধ, অধিকৃত এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার এবং দেশটির আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এ হামলা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত এলাকায় সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে।

