একসময় কার্ডিয়াক অ্যারেস্টকে বয়স্কদের রোগ হিসেবে মনে করা হলেও বর্তমানে তরুণদের মধ্যেও এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, জীবনযাত্রার পরিবর্তন, অনিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং কিছু জন্মগত কারণের কারণে অল্প বয়সেও কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হতে পারে।
কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলো এমন একটি জরুরি অবস্থা, যখন হৃদযন্ত্র হঠাৎ স্বাভাবিকভাবে কাজ করা বন্ধ করে দেয় এবং শরীরে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হয়। দ্রুত চিকিৎসা না পেলে এটি প্রাণঘাতী হতে পারে।
অল্প বয়সে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের সম্ভাব্য কারণ
জন্মগত হৃদরোগ
কিছু মানুষ জন্মগতভাবে হৃদযন্ত্রের গঠনগত বা বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে ঝুঁকিতে থাকেন। অনেক সময় এসব সমস্যা আগে থেকে শনাক্ত না হওয়ায় হঠাৎ জটিলতা দেখা দিতে পারে।
অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন
ধূমপান, মাদক গ্রহণ, অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ
অতিরিক্ত উদ্বেগ, মানসিক চাপ ও বিষণ্নতা হৃদযন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে জটিলতার কারণ হতে পারে।
উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস
বর্তমানে অনেক তরুণ উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছেন। এসব রোগ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে হৃদযন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
স্থূলতা ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা
অতিরিক্ত ওজন, দীর্ঘ সময় বসে থাকা এবং নিয়মিত ব্যায়ামের অভাব হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
স্টেরয়েড ও ক্ষতিকর সাপ্লিমেন্ট
দ্রুত শরীর গঠনের লক্ষ্যে অনেকে স্টেরয়েড বা অনিয়ন্ত্রিত সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করেন, যা হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক ছন্দে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
ভাইরাল সংক্রমণ
কিছু ভাইরাস হৃদপেশিতে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে, যা গুরুতর ক্ষেত্রে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের ঝুঁকি বাড়ায়।
যে লক্ষণগুলো অবহেলা করা উচিত নয়
- বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভব করা
- হঠাৎ শ্বাসকষ্ট
- অস্বাভাবিক হৃদস্পন্দন
- মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
- অল্প পরিশ্রমেই অতিরিক্ত ক্লান্তি
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ঝুঁকি কমাতে যা করবেন
- নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান
- সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খান
- প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট শারীরিক ব্যায়াম করুন
- ধূমপান, মাদক ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল পরিহার করুন
- পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন
- মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন
- পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস থাকলে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
চিকিৎসকদের মতে, সচেতনতা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে অল্প বয়সে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

