হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। চিকিৎসকদের মতে, এ রোগ থেকে সুরক্ষার জন্য টিকার কোনো বিকল্প নেই। তবে টিকা নেওয়ার পর শরীরে পূর্ণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে কিছুটা সময় লাগে।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম আক্রান্ত শিশুদের ভর্তি হওয়ার সংখ্যা বাড়ছে। চিকিৎসাধীন শিশুদের মধ্যে যেমন ৫-৬ মাস বয়সী শিশু রয়েছে, তেমনি ৪-৫ বছর বয়সীরাও রয়েছে। অনেক অভিভাবক টিকাদানের বিষয়ে সচেতন না হওয়ায় শিশুরা ঝুঁকিতে পড়ছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে টিকা নেওয়ার পরও সংক্রমণের ঘটনা দেখা যাচ্ছে, যা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামকে সাধারণ জ্বর বা শরীরে ফুসকুড়ির রোগ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সময়মতো চিকিৎসা না হলে এটি নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অপুষ্টি এবং অন্যান্য জটিলতার কারণ হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে রোগটি প্রাণঘাতীও হয়ে উঠতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, টিকা নেওয়ার পরপরই সুরক্ষা তৈরি হয় না। শরীরে প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে উঠতে নির্দিষ্ট সময় প্রয়োজন হয়। তাই নির্ধারিত বয়সে টিকা গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, হাম পুরোপুরি প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ। এ কারণে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা, অভিভাবকদের সচেতন করা এবং শিশুদের সময়মতো টিকার আওতায় আনা জরুরি। তাদের মতে, সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে হামজনিত জটিলতা ও শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।

