সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.) মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় মাজার কর্তৃপক্ষের কাছে আয়-ব্যয়ের হিসাব চাইলে সন্তোষজনক কোনো তথ্য উপস্থাপন করতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় মাজার দুটির আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
জানা গেছে, প্রকল্প ব্যয়ের একটি অংশ মাজার কর্তৃপক্ষের বহনের কথা থাকলেও তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় পরিকল্পনা কমিশনের নজরে আসে বিষয়টি। পরে জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় মাজারের আয়-ব্যয়ের নথিপত্র উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে পরিচালনা সংশ্লিষ্টরা দীর্ঘদিনের আয়ের কোনো পূর্ণাঙ্গ হিসাব দেখাতে পারেননি বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেছেন, মাজারে প্রাপ্ত নগদ অর্থ, পশু ও অন্যান্য দানের কোনো সুনির্দিষ্ট রেকর্ড সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই। ভবিষ্যতে নিয়মিত হিসাব সংরক্ষণ ও প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে মাজার কর্তৃপক্ষের দাবি, অল্প সময়ের নোটিশে সভা আহ্বান করায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা সম্ভব হয়নি। তারা প্রয়োজনীয় তথ্য পরে উপস্থাপন করবেন বলে জানিয়েছেন।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত মাজারের দান ও আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনা প্রথমবারের মতো প্রশাসনিক তদারকির আওতায় আসতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

