রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

প্রাপ্য অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার ফজিলত

ডেস্ক রিপোর্ট।।

ইসলাম মানুষের জান-মাল, সম্মান ও মর্যাদার সুরক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। অন্যের অধিকার হরণ, সম্পদ আত্মসাৎ বা আমানতের খিয়ানতকে ইসলাম গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে। ইসলামি শিক্ষায় বলা হয়েছে, মানুষের হক নষ্ট করার শাস্তি শুধু আখিরাতেই নয়, অনেক ক্ষেত্রে দুনিয়াতেও ভোগ করতে হয়।

পবিত্র Al-Qur’an-এ আল্লাহ তাআলা অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করতে নিষেধ করেছেন এবং আমানত যথাযথ মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ইসলামের দৃষ্টিতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও মানুষের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করা ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

হাদিসে Muhammad (সা.) সতর্ক করে বলেছেন, যে ব্যক্তি অন্যের ক্ষতি করে বা কষ্ট দেয়, আল্লাহ তাআলা তারও ক্ষতিসাধন করেন। অন্যের প্রতি জুলুম ও অধিকার হরণের পরিণতি সম্পর্কে একাধিক হাদিসে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

রাসুল (সা.) আরও বলেছেন, কোনো ব্যক্তি যদি কারও ওপর জুলুম করে থাকে, তাহলে কিয়ামতের আগেই তার কাছে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া উচিত। কারণ আখিরাতে অর্থ-সম্পদ দিয়ে নয়, বরং নেক আমলের মাধ্যমে হিসাব পরিশোধ করতে হবে। নেক আমল না থাকলে মজলুমের গুনাহ জালিমের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে।

ইসলামি চিন্তাবিদরা বলেন, অন্যের হক ফিরিয়ে দেওয়া শুধু একটি সামাজিক দায়িত্ব নয়; এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনেরও অন্যতম উপায়। মানুষের প্রাপ্য অধিকার আদায়, আমানত রক্ষা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ব্যক্তি দুনিয়া ও আখিরাত উভয় ক্ষেত্রেই সফলতা লাভ করতে পারে।

তাই প্রত্যেকের উচিত নিজের কাছে অন্য কারও কোনো পাওনা, আমানত বা অধিকার বাকি আছে কি না তা পর্যালোচনা করে দ্রুত তা ফিরিয়ে দেওয়া এবং মানুষের হক আদায়ে সচেতন হওয়া।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন