ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই মাঠের উত্তেজনার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে আলোচনায় উঠে আসে কিছু স্মরণীয় গান। আর সেই তালিকায় অন্যতম নাম কলম্বিয়ার জনপ্রিয় পপ তারকা Shakira। ‘ওয়াকা ওয়াকা’ ও ‘লা লা লা’ গানের মাধ্যমে বিশ্বকাপের সঙ্গে বিশেষভাবে যুক্ত এই শিল্পীকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হলেও অনেকেরই অজানা, প্রায় দুই দশক আগে তিনি নীরবে বাংলাদেশ সফর করেছিলেন।
২০০৭ সালের ভয়াবহ Cyclone Sidr-এর পর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অবস্থা দেখতে এবং UNICEF-এর শুভেচ্ছাদূত হিসেবে তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে আসেন শাকিরা। সফরের মূল লক্ষ্য ছিল দুর্যোগকবলিত শিশু ও পরিবারগুলোর পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করা।
ঢাকায় পৌঁছানোর পর খুব বেশি সময় রাজধানীতে অবস্থান না করে তিনি দক্ষিণাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শনে যান। সফরের দ্বিতীয় দিনে তিনি পটুয়াখালী অঞ্চলের সিডর-আক্রান্ত মানুষের সঙ্গে দেখা করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান।

সফরের একটি আবেগঘন মুহূর্ত ছিল সিডরে মা-বাবাকে হারানো ১১ বছর বয়সী এক শিশুর সঙ্গে সাক্ষাৎ। শিশুটির কণ্ঠে শোকের গান শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শাকিরা। পরে তিনি স্মৃতিচারণ করে জানান, দুর্যোগের ভয়াবহতার মধ্যেও শিশুদের হাসি, গান এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।
ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখে শাকিরা বলেছিলেন, পুরো গ্রাম ধ্বংস হয়ে যেতে দেখা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ছিল। অনেক পরিবার তাদের সবকিছু হারিয়েছে এবং অসংখ্য মানুষ প্রিয়জন হারানোর শোক বয়ে বেড়াচ্ছে। এসব অভিজ্ঞতা তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল।
বাংলাদেশ সফরের অংশ হিসেবে তিনি রাজশাহী-তেও একটি শিশু উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন। সেখানে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
শিশুদের কল্যাণে কাজ করার বিষয়ে শাকিরার আগ্রহ দীর্ঘদিনের। কৈশোর থেকেই তিনি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য কাজ শুরু করেন এবং পরবর্তীতে Pies ডেসকালজোস ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। নিজের শৈশবের অভিজ্ঞতা থেকেই শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন বলে বিভিন্ন সময় উল্লেখ করেছেন তিনি।
ইউনিসেফ সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ সফরটি ছিল অনেকটাই ব্যক্তিগত উদ্যোগে এবং প্রচারবিমুখভাবে সম্পন্ন। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে না থেকে তিনি সরাসরি মানুষের জীবনসংগ্রাম ও বাস্তবতা দেখতেই বেশি আগ্রহী ছিলেন।
বিশ্বকাপ ঘিরে যখন আবারও শাকিরার গান ও পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা চলছে, তখন তার বাংলাদেশ সফরের এই মানবিক অধ্যায় নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়—বিশ্বমঞ্চের একজন তারকা হয়েও তিনি দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হাজার মাইল দূরের একটি দেশে ছুটে এসেছিলেন।

