দীর্ঘদিন ধরে বিনামূল্যে ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও এখন ব্যবহারকারীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের পেইড বা সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক সেবা সম্প্রসারণের পথে এগোচ্ছে Meta Platforms। বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Facebook, WhatsApp এবং Instagram–এর মালিক প্রতিষ্ঠানটি ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন কিছু প্রিমিয়াম সুবিধা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে ব্যাপক বিনিয়োগের কারণে মেটা নতুন আয়ের উৎস খুঁজছে। প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে এআই অবকাঠামো উন্নয়নে বিপুল অর্থ বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। ফলে শুধু বিজ্ঞাপননির্ভর ব্যবসায়িক মডেলের বাইরে গিয়ে সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক সেবার ওপরও গুরুত্ব বাড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রিমিয়াম ফিচার, উন্নত টুলস এবং অতিরিক্ত সুবিধা দিতে পরীক্ষামূলকভাবে একাধিক সাবস্ক্রিপশন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে মেটা। বিশেষ করে কনটেন্ট নির্মাতা, ব্যবসায়িক ব্যবহারকারী এবং এআইভিত্তিক সেবার গ্রাহকদের জন্য নতুন সুবিধা যুক্ত করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, এআই প্রযুক্তির বিস্তার ব্যবহারকারীদের ইন্টারনেট ব্যবহারের ধরণ বদলে দিচ্ছে। ফলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন ব্যবসায়িক মডেল খুঁজতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে মেটার সাবস্ক্রিপশন সেবা ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটির আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠতে পারে।
বাজার বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, আগামী কয়েক বছরে সাবস্ক্রিপশন খাত থেকে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অন্যদের মতে, দীর্ঘদিন বিনামূল্যে সেবা পাওয়া ব্যবহারকারীদের বড় অংশ অর্থের বিনিময়ে অতিরিক্ত সুবিধা নিতে কতটা আগ্রহী হবে, সেটিই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
বর্তমানে মেটার মোট আয়ের বড় অংশই বিজ্ঞাপন থেকে আসে। তাই বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প আয়ের পথ তৈরি করাই প্রতিষ্ঠানটির প্রধান লক্ষ্য বলে মনে করছেন প্রযুক্তি খাতের পর্যবেক্ষকরা।
তবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামের মৌলিক সেবা অর্থের বিনিময়ে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিভিন্ন দেশে নীতিমালা ও সেবার ধরন ভিন্ন হতে পারে। নতুন সাবস্ক্রিপশন সুবিধাগুলো মূলত অতিরিক্ত ফিচার ও প্রিমিয়াম সেবাকেন্দ্রিক বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

