বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী নেত্রকোণা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার কুল্লাগড়া ও দুর্গাপুর সদর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় বন্যহাতির উপদ্রব ও প্রাণহানি ঠেকাতে ২০টি সোলার স্ট্রিটলাইট স্থাপন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার (২২জুন) উপজেলার দাহাপাড়া এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পাহাড়ি সীমান্তবর্তী রাস্তার পাশে স্ট্রিটলাইটগুলোর উদ্বোধন করা হয়। জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ও নেত্রকোণা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালের বিশেষ উদ্যোগে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে।
স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ি এই জনপদের মানুষ বন্যহাতির আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। প্রায়শই সীমান্ত পেরিয়ে ১৭থেকে ৩০টি হাতির দল লোকালয়ে নেমে এসে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। বন্যহাতির দল কৃষকদের চাষকৃত বোরো ধানের খেত, আম-কাঁঠাল ও কলার বাগান নষ্ট করার পাশাপাশি মাঝেমধ্যেই ঘরবাড়ি ভেঙে ফেলে। হাতির আক্রমণে একাধিক প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে এই এলাকায়।
সর্বশেষ গত ৫মে দুর্গাপুর সদর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ভবানীপুর এলাকায় বন্যহাতির আক্রমণে পার্থ রাংসা নামের এক যুবক নির্মমভাবে নিহত হন। এ ঘটনার পর এলাকার মানুষের জানমালের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সোলার স্ট্রিটলাইট স্থাপনের নির্দেশ দেন। আজ সোমবার এ অনুষ্ঠানে নিহত পার্থ রাংসার পিতাই আনুষ্ঠানিকভাবে সোলার লাইটগুলো স্থাপনের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আদিবাসী নেতা অঞ্জন চিসাম জানান, হাতির আক্রমণে যুবকের মৃত্যুর পর আমাদের নেতা ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মহোদয় তাৎক্ষণিক প্রতিরোধের উদ্যোগ নেন। আজ আমরা ২০টি সোলার স্ট্রিটলাইট পেয়েছি। আলোর কারণে হাতি সাধারণত লোকালয়ে প্রবেশ করতে ভয় পায়। তবে বিস্তীর্ণ সীমান্ত এলাকার জন্য এটি যথেষ্ট নয়, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আরও লাইট স্থাপনের দাবি জানাচ্ছি আমরা।
স্থানীয় বাসিন্দা চামেলা সাংমা ও মো. জাফর আলী জানান, ধান পাকলে বা কাঁঠাল পাকার মৌসুমে হাতির আক্রমণ বেড়ে যায়। প্রতিদিন রাতেই হাতির দল এসে ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষতি করে। সোলার লাইটগুলো স্থাপন হওয়ায় এখন এলাকার মানুষ কিছুটা স্বস্তিতে ঘুমাতে পারবেন এবং হাতির আক্রমণ থেকে রক্ষা পাবেন বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে এবং দুর্গাপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমেদ সাদাত বলেন, আমি প্রথমেই ধন্যবাদ জানাই মাননীয় ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল স্যারকে এ ধরনের সুন্দর উদ্দ্যেগ গ্রহণের জন্য। এই উদ্দ্যেগের ফলে স্থানীয় আদিবাসী ও বাঙ্গালী কৃষকদের জানমালের নিরাপত্তা অনেকাংশেই বেড়ে যাবে।
তিনি আরও জানান – বন্যহাতির সামনে পড়লে আমাদের করণীয় কি ? বন বিভাগের ভলান্টিয়ারের মাধ্যমে সীমান্ত এ ধরনের সচেতনতামুলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বজলুর রহমান আনছারী সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধি, বিএনপির নেতৃবৃন্দ এবং এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
সোলার স্ট্রিটলাইট স্থাপনের কাজ উদ্বোধনী শেষে উপস্থিত সকলে মিলে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।

