ভবিষ্যতের পৃথিবী কেমন হবে, এ নিয়ে নানা জনের নানা মত। কিন্তু ভবিষ্যতের পৃথিবীকে জোনাকির আলোয় আলোকিত করার কথা ভেবেছেন কি কখনও? যা ভাবনারও অতীত, সেই স্বপ্নকেই ছুঁয়ে দেখার পথে চীনের বিজ্ঞানীরা। গাছের শরীরে জোনাকির ডিএনএ বসিয়ে তারা এই অসাধ্যসাধনের পথে।
শহরের বুকে প্রাণসঞ্চার করতে সবুজায়নের চল রয়েছে। কিন্তু আরও একধাপ এগিয়ে গেছেন চীনের বিজ্ঞানীরা। তারা এমন উদ্ভিদের সৃষ্টি করেছেন, যারা আলো ছড়িয়ে শহরকে আলোকিত করতে সক্ষম। জিন প্রকৌশলের মাধ্যমে এই অসাধ্য সাধন করেছেন তারা। রাতের শহরকে আলোকিত করতে এবং শহরকে আকর্ষণীয় করে তোলাই লক্ষ্য তাদের।
কিন্তু যে পদ্ধতিতে এই অসাধ্যসাধন হলো, তা জেনে হতবাক গোটা বিশ্ব। ইউরোনিউজ জানিয়েছে, জোনাকি পোকা এবং আলো উৎপাদনকারী ছত্রাকের জিন উদ্ভিদের কোষে প্রতিস্থাপন করে বিশেষ ধরনের উদ্ভিদ সৃষ্টি করেছেন বিজ্ঞানীরা, যা থেকে মৃদু আলো বিচ্ছুরিত হয়। অর্কিড, সূর্যমুখী, চন্দ্রমল্লিকার ২০টির বেশি প্রজাতির গাছের শরীরে জোনাকি এবং আলো উৎপাদনকারী ছত্রাকের জিন প্রতিস্থাপন করে, সেগুলোকে অন্ধকারে আলো ছড়ানোর উপযোগী করে তোলা হয়েছে।
বায়োটেকনোলজি সংস্থা ম্যাজিকপেন বায়ো’র প্রতিষ্ঠাতা লি রেংহানের নেতৃত্বে এই অভূতপূর্ব সৃষ্টির সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ববাসী। ওই গাছ বসানো হলে পৃথিবীকে কল্পবিজ্ঞানের বইয়ে পড়া ‘ভিনগ্রহের মতোই’ দেখাবে বলে মনে করছেন অনেকে। লি জানিয়েছেন, পর্যটন এবং রাত্রিকালীন অর্থনীতির কথা ভেবেই এই যুগান্তকারী সৃষ্টি করছেন তারা। হলিউড ছবি ‘অবতার’-এর সঙ্গে ভবিষ্যতের পৃথিবীর তুলনা টেনেছেন তিনি।
অন্ধকারে জ্বলজ্বল করা গাছকে ঘিরে সাড়া পড়ে গিয়েছিল ২০২৪ সালে। ওই বছর ‘Firefly Petunia’ বিক্রি করে লাইট বায়ো। আলো উৎপাদনকারী মাশরুমের ডিএনএ প্রতিস্থাপন করে সেবার ওই গাছ সৃষ্টি করা হয়। তবে চীনের বিজ্ঞানীরা সবাইকে ছাপিয়ে গেছেন। ২০টির বেশি প্রজাতির আলো ছড়ানো গাছ সৃষ্টি করেছেন তারা। ওই ২০টি গাছ বসানো হলে, গোটা পার্ক আলোকিত হয়ে উঠতে পারে। শহরের একটি অংশ আলোকিত হতে পারে বিদ্যুৎ ছাড়াই।
চীনা বিজ্ঞানীদের মতে, এতে বিদ্যুতের খরচও বাঁচবে, বাঁচবে জ্বালানি, ক্ষতিকর নির্গমনও ঠেকানো যাবে।

