বরগুনার আমতলী উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া এলাকায় মোস্তাকিম বিল্লাহ লিমন (১২) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সে অস্বাভাবিক আচরণ করছিল এবং বুধবার (২৪ জুন) গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তবে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পুলিশ বলছে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
নিহত মোস্তাকিম বিল্লাহ লিমন উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া বাজারসংলগ্ন এলাকার মো. সোহেল মিয়ার ছেলে এবং আড়পাঙ্গাশিয়া দারুচ্ছুন্নাত ছালেহিয়া দ্বীনিয়া মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে লিমন মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ করে দেয়। বুধবার দুপুরে খাবারের জন্য ডাকাডাকি করেও তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে বিকেলে ঘরের আড়ার সঙ্গে রশি পেঁচানো অবস্থায় তাকে দেখতে পান স্বজনরা। উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের চাচা শামিম মিয়া বলেন, “ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পাই। দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।”
পরিবারের দাবি, প্রায় চার মাস আগে থেকে লিমনের ওপর ‘জিনের আচর’ ছিল এবং এর আগে সে কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, শিশুটির গলায় ফাঁসের সুস্পষ্ট আলামত তাদের চোখে পড়েনি।
আড়পাঙ্গাশিয়া দারুচ্ছুন্নাত ছালেহিয়া দ্বীনিয়া মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আসাদুজ্জামান বলেন, “চার মাস ধরে সে মাদ্রাসায় আসছিল না। কয়েকদিন আগে তার বাবা আবার মাদ্রাসায় পাঠানোর কথা বলেছিলেন। আজ তার মৃত্যুর খবর শুনলাম। বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর।”
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুল হাসান রাহাত বলেন, “শিশুটিকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।”
আমতলী থানার ওসি (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

