মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
Logo

মধ্যপ্রাচ্যে বদলে যাচ্ছে মার্কিন আধিপত্যের সমীকরণ

ডেস্ক রিপোর্ট।।

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। নিরাপত্তা খাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বজায় থাকলেও অর্থনীতি, বাণিজ্য ও অবকাঠামো উন্নয়নে ক্রমেই চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে অঞ্চলের দেশগুলো। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ধরনের শক্তির ভারসাম্য গড়ে উঠছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, জ্বালানি বাণিজ্য ও কৌশলগত রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র ছিল প্রধান নিয়ামক শক্তি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক উপস্থিতি সেই চিত্রে পরিবর্তন আনছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিং সামরিক জোটের পরিবর্তে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করছে। গত দুই দশকে চীন ও আরব বিশ্বের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রায় ৩৬ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৪০০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এর ফলে অঞ্চলটির সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদারে পরিণত হয়েছে চীন।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র এখনও মধ্যপ্রাচ্যে একাধিক সামরিক ঘাঁটি পরিচালনা করছে এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা ও অস্ত্র বিক্রির মাধ্যমে প্রভাব ধরে রেখেছে। তবে অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে আগের তুলনায় তাদের প্রভাব কমেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

সাম্প্রতিক ইরান-সংকট এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা এই পরিবর্তিত বাস্তবতাকে আরও স্পষ্ট করেছে। বিশ্লেষকদের ভাষ্য, চীনের জ্বালানি সরবরাহ ওই রুটের ওপর নির্ভরশীল হলেও অঞ্চলটিতে সামরিক উপস্থিতি সীমিত। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা ধরে রেখেছে।

এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখলেও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে সৌদি আরব, ইরান ও তুরস্কের মতো দেশগুলো বিভিন্ন আঞ্চলিক ইস্যুতে মার্কিন মধ্যস্থতা ছাড়াই পারস্পরিক সংলাপ ও যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে একটি আঞ্চলিক অনাক্রমণ চুক্তি (নন-অ্যাগ্রেশন প্যাক) নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস, প্রক্সি সংঘাত এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে এমন উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়ে গেছে।

তাদের মতে, কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও কূটনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে আরও স্বাধীন ও বহুমাত্রিক কৌশল গ্রহণের পথে এগোচ্ছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন