রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

নির্ভরতার ছায়াময় বটবৃক্ষ ‘বাবা’

ডেস্ক রিপোর্ট।।

একজন সন্তানের জীবনে বাবাই প্রথম নিরাপত্তা, ভরসা ও নির্ভরতার প্রতীক। পরিবারের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে নীরবে ত্যাগ স্বীকার করেন তিনি। সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়তে নিজের প্রয়োজন বিসর্জন দেওয়া, কঠোর পরিশ্রম এবং দায়িত্বশীলতার মধ্য দিয়েই একজন বাবা হয়ে ওঠেন পরিবারের দৃঢ় ভিত্তি।

ইসলামও পিতার এই অবদানকে অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে মূল্যায়ন করেছে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে বারবার বাবা-মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা, সদাচরণ এবং তাদের অধিকার আদায়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে পিতার সন্তুষ্টিকে আল্লাহর সন্তুষ্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বাবার সন্তুষ্টিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং বাবার অসন্তুষ্টিতে আল্লাহর অসন্তুষ্টি নিহিত।’ (সুনানে তিরমিজি: ১৮৯৯)। এই হাদিসে পিতার মর্যাদা এবং তার প্রতি সন্তানের দায়িত্বের গুরুত্ব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

পবিত্র কোরআনের সুরা বনি ইসরাইলের ২৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা নিজের ইবাদতের নির্দেশের পরপরই পিতা-মাতার সঙ্গে উত্তম আচরণের নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে বার্ধক্যে তাদের সঙ্গে ধৈর্য, সম্মান ও কোমল আচরণ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

ইসলামী শিক্ষায় সন্তানের দায়িত্ব শুধু পিতার জীবদ্দশায় সীমাবদ্ধ নয়। বাবা মৃত্যুবরণ করার পরও তার জন্য দোয়া করা, মাগফিরাত কামনা করা, অসমাপ্ত অঙ্গীকার পূরণ করা, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা এবং তার বন্ধুদের সম্মান করাকে গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশনা সুনানে আবু দাউদে বর্ণিত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক ব্যস্ত জীবনে অনেকেই বাবার সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ কম পান। অথচ পরিবারের জন্য একজন বাবার ত্যাগ ও সংগ্রাম অধিকাংশ সময়ই নীরব থাকে। তাই জীবিত অবস্থায় তার খোঁজখবর নেওয়া, সম্মান করা, প্রয়োজনের সময় পাশে থাকা এবং মৃত্যুর পর তার জন্য নিয়মিত দোয়া করা প্রত্যেক সন্তানের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব।

পরিবারে একজন বাবা শুধু অভিভাবক নন; তিনি ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও আত্মত্যাগের জীবন্ত প্রতীক। তাই জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে তার অবদানকে সম্মান জানানো এবং তার সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করাই একজন সন্তানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন