মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
Logo

চীনের করিডর প্রস্তাব: বাণিজ্যে সম্ভাবনা, ভূরাজনীতিতে সতর্কতার বার্তা

ডেস্ক রিপোর্ট।।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার হয়ে চীনের মধ্যকার অর্থনৈতিক করিডরের প্রস্তাবকে আঞ্চলিক বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এ উদ্যোগ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ঢাকাকে কৌশলী হয়ে এগোতে হবে।বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীনের ভাষা, সংস্কৃতি ও ভূপ্রকৃতিতে রয়েছে ভিন্নতা। কিন্তু তিন দেশকে উন্নয়ন সূতায় গাঁথতে সম্প্রতি ইকোনমিক করিডর বা অর্থনৈতিক নেটওয়ার্কের ভিন্নধর্মী একটি প্রস্তাব দিয়েছে বেইজিং, যেটি ঘিরে আঞ্চলিক বাণিজ্যে তৈরি হতে পারে নতুন সম্ভাবনা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এ প্রস্তাব দেন। কিন্তু কী রয়েছে এই অর্থনৈতিক করিডর পরিকল্পনায়? আর এটি কি আদৌ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আমূল বদলে দিতে পারে?

প্রস্তাবিত স্থলপথটি চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিং থেকে মিয়ানমারের মান্দালয় হয়ে রাখাইন অঞ্চলে পৌঁছাবে। সেখান থেকে এটি বাংলাদেশের কক্সবাজার, চট্টগ্রাম হয়ে দেশের প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে যুক্ত হবে। প্রায় ১ হাজার ৭০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক ও রেল করিডরের মাধ্যমে তিন দেশের প্রায় ১০০ মিলিয়ন মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও বাণিজ্য সহজ হবে। পরিকল্পনায় বাংলাদেশের প্রধান দুটি সমুদ্রবন্দরের আধুনিকায়নের বিষয়টিও রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই করিডর কেবল পণ্য পরিবহন বা বাণিজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, আরাকান হয়ে এটি বাস্তবায়িত হলে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা ও অনুকূল বাস্তবতা তৈরি হতে পারে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহবুব উজ জামান বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘এই উদ্যোগের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই রোহিঙ্গা ইস্যু জড়িত। আমার মতে, অর্থনৈতিক করিডর রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন। গবেষণার ফলেই সম্ভাব্য লাভ, ক্ষতি ও ঝুঁকি স্পষ্ট হবে।
এর আগে মিয়ানমারের রাখাইনের সঙ্গে যোগাযোগে বাংলাদেশকে দেয়া জাতিসংঘরের মানবিক করিডরের প্রস্তাব ঘিরে ছিল তুমুল সমালোচনা। বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন অর্থনৈতিক করিডর নিয়ে চীনের প্রস্তাব একেবারেই ভিন্ন। তবে, সম্ভাবনার পাশাপাশি সতর্কতার কথাও বলছেন তারা।

অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘মিয়ানমার সরকারকে উপেক্ষা করে জোর করে কোনো মানবিক করিডর চালু করা হলে তা গুরুতর সমস্যা তৈরি করতে পারে। অর্থনৈতিক করিডরের বিষয়টি সেই অর্থে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটি মূলত অর্থনৈতিক সহযোগিতার উদ্যোগ, যা সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।’
বাংলাদেশ এখনো এই প্রস্তাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। সরকার বিষয়টিকে বিবেচনায় রেখে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সুবিধা এবং জাতীয় স্বার্থের দিকগুলো যাচাই করছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন