ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে সরকারি প্রতিনিধি দলের অংশ হিসেবে তার ইরান সফরের প্রস্তুতি চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৪ থেকে ৯ জুলাই তেহরান, কোম, ইরাক ও মাশহাদে আয়োজিত শোকানুষ্ঠানে অংশ নেবেন স্পিকার। এই সফরকে বাংলাদেশ-ইরান সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে নিজ কার্যালয়ে এক মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ অভিযানে নিহত হন ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তার মৃত্যুর পর ইরানে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয় এবং দীর্ঘ প্রস্তুতির পর জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে জানাজা ও দাফনের কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়।
ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েক কোটি মানুষের অংশগ্রহণের লক্ষ্য নিয়ে আয়োজন করা হয়েছে এই শোকানুষ্ঠান। এতে বাংলাদেশসহ ইরাক, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ভারত, সিরিয়া ও লেবাননসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে তেহরান।
খামেনির মৃত্যুর পর বাংলাদেশের শোকবার্তা নিয়ে শুরুতে কিছু আলোচনা তৈরি হলেও পরবর্তীতে সরকার দ্বিতীয় বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করে এবং ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে। এরপর ঢাকায় ইরান দূতাবাসে খোলা শোকবইয়ে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের স্বাক্ষর এবং জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব গ্রহণের মাধ্যমে দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও দৃশ্যমান হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, স্পিকারের এই সফর শুধু শোকানুষ্ঠানে অংশগ্রহণেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং জ্বালানি সহযোগিতা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশ-ইরান সম্পর্ক আরও জোরদারের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক বার্তা বহন করতে পারে।

