পবিত্র কোরআনের ৫৬তম সুরা সুরা ওয়াকিয়া মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সুরা। কিয়ামত, আখিরাত, জান্নাত-জাহান্নাম এবং মানুষের চূড়ান্ত পরিণতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনার পাশাপাশি এ সুরা নিয়মিত তেলাওয়াতের ফজিলত সম্পর্কেও বিভিন্ন হাদিসে বর্ণনা পাওয়া যায়।
হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি নিয়মিত রাতে সুরা ওয়াকিয়া তেলাওয়াত করবে, আল্লাহ তাকে দারিদ্র্য থেকে হেফাজত করবেন। সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি প্রতি রাতে সুরা ওয়াকিয়া পাঠ করবে, তাকে কখনো দারিদ্র্য স্পর্শ করবে না।” (বায়হাকি, হাদিস: ২৪৯৮)
এ বিষয়ে তাফসিরে মাআরিফুল কোরআন-এ একটি ঐতিহাসিক ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বর্ণিত আছে, মৃত্যুশয্যায় থাকা হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-কে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিলে তিনি জানান, তার কন্যাদের দারিদ্র্যের ভয় নেই। কারণ তিনি তাদের প্রতি রাতে সুরা ওয়াকিয়া তেলাওয়াত করার নির্দেশ দিয়ে গেছেন। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছ থেকে তিনি এ সুরার বিশেষ ফজিলতের কথা শুনেছেন।
তবে ইসলামী গবেষকরা উল্লেখ করেন, এ সংক্রান্ত বর্ণনাগুলোর সনদ নিয়ে মুহাদ্দিসদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। তাই এসব ফজিলত বর্ণনার পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—আল্লাহর ওপর ভরসা, হালাল উপার্জনের চেষ্টা এবং কোরআনের শিক্ষা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা।
বিষয়বস্তুর দিক থেকে সুরা ওয়াকিয়ায় কিয়ামতের ভয়াবহ দৃশ্য, মানুষের পুনরুত্থান এবং শেষ বিচারের দিনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সেদিন মানুষ তিনটি দলে বিভক্ত হবে—আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত (সাবিকুন), ডান হাতের অধিকারী (আসহাবুল ইয়ামিন) এবং বাম হাতের অধিকারী (আসহাবুশ শিমাল)।
এ ছাড়া সুরাটিতে জান্নাতের অফুরন্ত নেয়ামত ও জাহান্নামের কঠিন শাস্তির বর্ণনার মাধ্যমে মানুষকে নেক আমলের প্রতি উৎসাহিত এবং গুনাহ থেকে সতর্ক করা হয়েছে।
আলেমদের মতে, সুরা ওয়াকিয়া নিয়মিত তেলাওয়াত, এর অর্থ অনুধাবন এবং শিক্ষা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করাই একজন মুমিনের জন্য সবচেয়ে বড় কল্যাণের পথ।

