গরমের দিনে ম্যাঙ্গো মিল্কশেক বা আম-দুধের স্মুদি অনেকেরই পছন্দের পানীয়। তবে দীর্ঘদিন ধরেই একটি প্রশ্ন ঘুরে বেড়ায়—আম ও দুধ একসঙ্গে খাওয়া কি শরীরের জন্য ক্ষতিকর? পুষ্টিবিদদের মতে, পরিমিত পরিমাণে এবং স্বাস্থ্যসম্মতভাবে গ্রহণ করলে এই সংমিশ্রণ সাধারণত নিরাপদ এবং পুষ্টিকর।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকা আমে থাকা প্রাকৃতিক শর্করা, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি ও খাদ্যআঁশের সঙ্গে দুধের প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও স্বাস্থ্যকর চর্বি মিলিয়ে এটি একটি ভারসাম্যপূর্ণ খাবারে পরিণত হয়।
আম ও দুধ একসঙ্গে খাওয়ার সম্ভাব্য উপকারিতা
আমের প্রাকৃতিক কার্বোহাইড্রেট এবং দুধের প্রোটিন শরীরে দ্রুত শক্তি জোগাতে সহায়তা করে। পাশাপাশি এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করতে পারে।
দুধে থাকা ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও প্রোটিন হাড়, দাঁত এবং পেশির সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে আমে থাকা ভিটামিন এ ও সি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি চোখ ও ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়ক।
যারা স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন বাড়াতে চান, তাদের জন্য আম ও দুধের সংমিশ্রণ উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত একটি ভালো খাদ্য হতে পারে। এছাড়া পাকা আমের খাদ্যআঁশ হজম প্রক্রিয়াতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
যাদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন
তবে এই খাবার সবার জন্য সমান উপযোগী নয়। ল্যাকটোজ অসহিষ্ণু ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দুধ খাওয়ার পর গ্যাস, পেট ফাঁপা বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদেরও পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে আম খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া ম্যাঙ্গো শেকে অতিরিক্ত চিনি, সিরাপ বা আইসক্রিম যোগ করলে এর ক্যালোরি ও চিনির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
খাওয়ার সময় যা মনে রাখবেন
পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, ভালোভাবে পাকা ও পরিষ্কার আম ব্যবহার করা উচিত। দুধ হতে হবে তাজা ও নিরাপদ। পাশাপাশি অতিরিক্ত চিনি না মিশিয়ে প্রাকৃতিক স্বাদে পান করাই সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিমাণে এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে আম ও দুধের সংমিশ্রণ উপভোগ করলে এটি শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে যাদের বিশেষ স্বাস্থ্যগত সমস্যা রয়েছে, তারা প্রয়োজন হলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে খাদ্যতালিকায় এটি অন্তর্ভুক্ত করবেন।

