রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

মানবসেবায় আল্লাহর সন্তুষ্টি

ডেস্ক রিপোর্ট।।

মানবসেবা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে মানুষের কল্যাণে কাজ করা, বিপদে-আপদে একে অপরের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজে ন্যায় ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সমগ্র জীবন মানবকল্যাণে উৎসর্গ করেছিলেন। তাই একজন প্রকৃত মুমিনের পরিচয় হলো—সে আল্লাহভীরু হবে এবং মানুষের উপকারে নিজেকে নিয়োজিত রাখবে।

মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, “সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে একে অন্যকে সহযোগিতা করো। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে সহযোগিতা করো না। আর আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।” (সুরা মায়েদা, আয়াত: ২)

আমরা সবাই সমাজে বসবাস করি। তাই প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের খোঁজখবর রাখা এবং তাদের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানো প্রত্যেক মুসলমানের নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু বাস্তবতায় দেখা যায়, অনেক সময় মানুষ অন্যের দুর্দশাকে সহমর্মিতার পরিবর্তে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে। বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির সম্পদ বা পণ্য কম দামে কিনে নেওয়ার মতো অমানবিক ঘটনাও সমাজে ঘটছে, যা ইসলামের শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।

ইসলাম শুধু মানুষের উপকার করার শিক্ষা দেয় না, বরং সমাজ থেকে অন্যায়, অবিচার, মাদক, ধর্ষণ, যৌতুক এবং সব ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধেরও নির্দেশ দেয়। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন, “তোমরাই সর্বোত্তম উম্মত। তোমাদের আবির্ভাব হয়েছে মানবজাতির কল্যাণের জন্য। তোমরা সৎকাজের আদেশ দাও, অসৎকাজে নিষেধ করো এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করো।” (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১১০)

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমাজে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহানুভূতি ও মানবিক মূল্যবোধ জোরদার হলে সামাজিক সম্প্রীতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠা সহজ হবে। অন্যের উপকারে এগিয়ে আসা শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনেরও অন্যতম মাধ্যম।

তাই ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ—সব পর্যায়ে মানবসেবার চর্চা বাড়াতে হবে। অন্তত অন্যের ক্ষতি না করে, সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের উপকারে এগিয়ে আসাই হতে পারে একটি সুন্দর, মানবিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ার পথ।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন