প্রস্রাবের রঙ শরীরের বিভিন্ন পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ একটি ইঙ্গিত হতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান, খাদ্যাভ্যাস, কিছু ওষুধ কিংবা নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে প্রস্রাবের রঙ বদলে যেতে পারে। তবে শুধু প্রস্রাবের রঙ দেখে কোনো রোগ নিশ্চিতভাবে নির্ণয় করা সম্ভব নয়। অস্বাভাবিক রঙ দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে বা এর সঙ্গে অন্য উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কোন রঙ কী ইঙ্গিত দেয়?
স্বচ্ছ বা একেবারে পরিষ্কার:
একেবারে স্বচ্ছ প্রস্রাব সাধারণত অতিরিক্ত পানি পান করার লক্ষণ। যদিও এটি সবসময় উদ্বেগের বিষয় নয়, তবে অতিরিক্ত পানি পান করলে শরীরের লবণের ভারসাম্যে প্রভাব পড়তে পারে।
হালকা হলুদ:
এটি সবচেয়ে স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যকর প্রস্রাবের রঙ। এর অর্থ শরীরে পানির ভারসাম্য ঠিক রয়েছে।
গাঢ় হলুদ বা অ্যাম্বার:
এ ধরনের রঙ সাধারণত পানিশূন্যতার ইঙ্গিত দেয়। এ অবস্থায় পর্যাপ্ত পানি পান করা প্রয়োজন। সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কমলা রঙ:
পানিশূন্যতা ছাড়াও কিছু ওষুধ, অতিরিক্ত ভিটামিন বি কিংবা লিভার ও পিত্তথলির সমস্যার কারণে প্রস্রাব কমলা রঙের হতে পারে। যদি এর সঙ্গে চোখ বা ত্বক হলুদ হয়ে যায়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
গোলাপি বা লাল:
প্রস্রাবে রক্ত থাকলে এমন রঙ দেখা যেতে পারে। তবে বিট, ব্ল্যাকবেরি বা নির্দিষ্ট কিছু খাবার খাওয়ার পরও প্রস্রাব সাময়িকভাবে লালচে হতে পারে। যদি খাবারের কারণে না হয়, তাহলে এটি কিডনিতে পাথর, মূত্রনালির সংক্রমণ, কিডনির রোগ বা অন্য কোনো গুরুতর সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
বাদামি:
তীব্র পানিশূন্যতা, লিভারের সমস্যা, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অথবা অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের কারণেও প্রস্রাব বাদামি হতে পারে।
নীল বা সবুজ:
এটি তুলনামূলক বিরল। কিছু ওষুধ, খাদ্যে ব্যবহৃত রং, বিরল জিনগত রোগ কিংবা কিছু ক্ষেত্রে মূত্রনালির সংক্রমণের কারণে এমন হতে পারে।
সাদা বা ঘোলা:
ঘোলা প্রস্রাব মূত্রনালির সংক্রমণ, কিডনিতে পাথর বা প্রস্রাবে অতিরিক্ত খনিজ পদার্থের উপস্থিতির ইঙ্গিত দিতে পারে। এর সঙ্গে দুর্গন্ধ, জ্বালাপোড়া বা জ্বর থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন—
-
প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে।
-
কয়েক দিন ধরে প্রস্রাবের অস্বাভাবিক রঙ স্থায়ী থাকলে।
-
প্রস্রাবের সময় তীব্র জ্বালাপোড়া বা ব্যথা অনুভব হলে।
-
জ্বর, বমি বা কোমরে ব্যথা থাকলে।
-
দীর্ঘদিন ধরে প্রস্রাবে দুর্গন্ধ বা ঘোলাভাব থাকলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্রাবের রঙ শরীরের স্বাস্থ্যের একটি প্রাথমিক সূচক হলেও এটি কোনো রোগ নির্ণয়ের একমাত্র উপায় নয়। তাই অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে নিজে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

