রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

কম দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি, বাড়ছে বিদেশি সিগারেটের চোরাচালান

ডেস্ক রিপোর্ট।।

দেশে সিগারেটের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার পর বিদেশি সিগারেটের চোরাচালান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা যাত্রীদের মাধ্যমে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে অবৈধভাবে সিগারেট আনার প্রবণতা বাড়ছে। গত ছয় মাসে বিমানবন্দরটিতে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২৪ হাজার ৪০০ কার্টন সিগারেট জব্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত মোট ২৪ হাজার ৩৬৪ কার্টন আমদানি-নিষিদ্ধ সিগারেট উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে বিপুল পরিমাণ ই-সিগারেটও জব্দ করা হয়।

 অধিকাংশ চালানই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত যাত্রীদের লাগেজে পাওয়া গেছে। অনেক যাত্রীর ব্যাগে ১০ থেকে ২০ কার্টন, এমনকি এর চেয়েও বেশি পরিমাণ সিগারেট বহনের ঘটনা ধরা পড়েছে।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন শেখ আবদুল্লাহ আলমগীর বলেন, কাস্টমস গোয়েন্দা ও এভিয়েশন সিকিউরিটির সমন্বিত নজরদারি এবং স্ক্যানিং ব্যবস্থা জোরদার করায় চোরাচালানের বড় বড় চালান শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। এতে সরকারের রাজস্ব সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

কাস্টমসের পরিসংখ্যান বলছে, গত ডিসেম্বরে সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৫৪২ কার্টন সিগারেট জব্দ করা হয়। এরপর জানুয়ারিতে ১ হাজার ৯৯৭, ফেব্রুয়ারিতে ৪ হাজার ৩৩৪, মার্চে ১ হাজার ৪৫৬, এপ্রিলে ৪ হাজার ১৯১ এবং মে মাসে ৫ হাজার ৮৪৪ কার্টন সিগারেট উদ্ধার করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন জানান, ব্যাগেজ বিধিমালা অনুযায়ী একজন যাত্রী ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য সর্বোচ্চ ২০০ শলাকা বা ১০ প্যাকেট সিগারেট আনতে পারেন। এর বেশি বহন করলে তা জব্দ করা হয়।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, মধ্যপ্রাচ্যের ডিউটি-ফ্রি বাজারে সিগারেটের দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় অসাধু চক্র সেই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে। শুল্ক পরিশোধ না করেই এসব সিগারেট দেশে এনে কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে, ফলে রাজস্ব ফাঁকির পাশাপাশি অবৈধ বাণিজ্যও বাড়ছে।

বর্তমানে দেশে ১০ শলাকা সিগারেটের মূল্য ৬২ টাকা থেকে ২১০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশে একই ধরনের সিগারেট বাংলাদেশি মুদ্রায় মাত্র ৩ থেকে ৫ টাকায় পাওয়া যায়। এ মূল্য ব্যবধানই চোরাচালানকে লাভজনক করে তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিদিন শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ১০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অবতরণ করে। কাস্টমস কর্মকর্তাদের মতে, প্রতিটি যাত্রীর লাগেজে আরও কঠোর তল্লাশি চালানো গেলে অবৈধ সিগারেটের আরও বড় চালান আটক করা সম্ভব হবে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন