রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

থাইল্যান্ডের বিউটি বাজারে জায়গা করে নিচ্ছে বাংলাদেশি কসমেটিকস

ডেস্ক রিপোর্ট।।

একসময় বাংলাদেশের কসমেটিকস বাজারে থাইল্যান্ডের পণ্যের আধিপত্য ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে পাল্টেছে সেই চিত্র। এখন থাইল্যান্ডের বাজারেই বিক্রি হচ্ছে বাংলাদেশে উৎপাদিত স্কিন কেয়ার ও কসমেটিকস পণ্য, যা দেশের উৎপাদন সক্ষমতা ও রপ্তানি সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

থাইল্যান্ডের স্থানীয় বাজার, জনপ্রিয় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম লাজাদা থাইল্যান্ড এবং বিভিন্ন ফার্মেসিতে বাংলাদেশে উৎপাদিত আন্তর্জাতিক মানের স্কিন কেয়ার ও কালার কসমেটিকস পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় আমদানিকারক ও পরিবেশকদের মাধ্যমে এসব পণ্য দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে।

পরিবেশকদের ভাষ্য, প্রাকৃতিক উপাদানসমৃদ্ধ সৌন্দর্যপণ্যের প্রতি থাই ভোক্তাদের আগ্রহ বাড়ছে। মান, কার্যকারিতা এবং তুলনামূলক প্রতিযোগিতামূলক মূল্যের কারণে বাংলাদেশে তৈরি পণ্য ধীরে ধীরে সেখানে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত এক দশকে দেশের কসমেটিকস শিল্পে আধুনিক প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক মানের কাঁচামাল, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং উন্নত প্যাকেজিং ব্যবস্থার সমন্বয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এর ফলে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এখন বিশ্বমানের পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিতে সক্ষমতা অর্জন করেছে।

এই অগ্রগতির ধারাবাহিকতায় আমদানিনির্ভরতা কমার পাশাপাশি নতুন নতুন আন্তর্জাতিক বাজারও তৈরি হচ্ছে। হালাল সার্টিফিকেশন, জিএমপি সনদ এবং গ্রিন ফ্যাক্টরির মতো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এ খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

দেশের অন্যতম উৎপাদক রিমার্ক এইচবি লিমিটেডের তৈরি নিওর, সিওডিল ও লিলি ব্র্যান্ডের বিভিন্ন স্কিন কেয়ার ও কসমেটিকস পণ্য বর্তমানে থাইল্যান্ড ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ওমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

সিওডিল ব্র্যান্ডের পরিচালক সুকান্ত কুমার দাস বলেন, থাইল্যান্ডের বাজারে বাংলাদেশি স্কিন কেয়ার ও কসমেটিকস পণ্যের ইতিবাচক সাড়া প্রমাণ করে যে দেশ এখন আন্তর্জাতিক মানের সৌন্দর্যপণ্য উৎপাদনে সক্ষম।

অ্যাসোসিয়েশন অব স্কিন কেয়ার অ্যান্ড বিউটি প্রোডাক্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অব বাংলাদেশের (এএসবিএমইবি) সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দীন বলেন, থাইল্যান্ডের মতো প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে প্রবেশ বাংলাদেশের কসমেটিকস শিল্পের জন্য বড় অর্জন। আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে পারলে এ খাতের রপ্তানি আরও সম্প্রসারিত হবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, তৈরি পোশাকনির্ভর রপ্তানি কাঠামোর বাইরে কসমেটিকস ও ব্যক্তিগত পরিচর্যা পণ্যের মতো উচ্চ মূল্যসংযোজনকারী শিল্প বাংলাদেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও ভ্যাট ও করনীতিসহ বিভিন্ন নীতিগত বৈষম্য শিল্পটির বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ উদ্যোক্তাদের। তাদের দাবি, রপ্তানি প্রণোদনা বৃদ্ধি, কর কাঠামোর সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশে সরকারি সহায়তা জোরদার করা হলে বাংলাদেশের কসমেটিকস শিল্প বৈশ্বিক বাজারে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন