রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

এশিয়ার সেরা ১০০ বিজ্ঞানীর তালিকায় ৩ বাংলাদেশি

ডেস্ক রিপোর্ট।।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিজ্ঞান সাময়িকী এশিয়ান সায়েন্টিস্ট গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এশিয়ার সেরা ১০০ বিজ্ঞানীর তালিকা প্রকাশ করেছে। এতে বাংলাদেশের তিন গবেষক স্থান পেয়েছেন। তারা হলেন মারজানা আক্তার, ড. তাহমিদ আহমেদ এবং ড. মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন শায়ক।

এবারের তালিকায় চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেলজয়ী শিমন সাকাগুচি, রসায়নে নোবেলজয়ী সুসুমু কিতাগাওয়া এবং গণিতে আবেল পুরস্কারজয়ী মাসাকি কাশিওয়ারার মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানীরাও স্থান পেয়েছেন।

এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে হলে আগের বছরে জাতীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার, মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার অর্জন অথবা গবেষণা ও শিল্পখাতে নেতৃত্বের স্বীকৃতি থাকতে হয়। নির্বাচিত গবেষকদের ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০’–এর সম্মানিত সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

চলতি বছরের তালিকায় সবচেয়ে কম বয়সী বিজ্ঞানী হিসেবে জায়গা পেয়েছেন বাংলাদেশের মারজানা আক্তার। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষার্থী পোলট্রি খাতে প্রথমবারের মতো একটি বিশেষ ভাইরাস শনাক্ত করে ভাইরোলজি গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন।

এছাড়া ২০২৫ সালে জাতিসংঘের মর্যাদাপূর্ণ ইয়াং উইমেন ফর বায়োসিকিউরিটি ফেলোশিপ অর্জনকারী বিশ্বের মাত্র ১০ তরুণীর একজন ছিলেন মারজানা। বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বায়োসিকিউরিটি, বায়োসেফটি ও বিজ্ঞান কূটনীতি নিয়ে কাজ করছেন।

মারজানার স্বামী এবং নিউজিল্যান্ডভিত্তিক ওয়্যারলেস পাওয়ার ট্রান্সফার কোম্পানির সহপ্রতিষ্ঠাতা ইউশা আরাফ জানান, মাস্টার্সে অধ্যয়নকালে গর্ভাবস্থায় গবেষণার কাজ চালিয়ে যাওয়ার সময় মারজানাকে শারীরিক জটিলতার কারণে আইসিইউতেও থাকতে হয়েছিল। সন্তান জন্মের কয়েক সপ্তাহ পরই তিনি সফলভাবে মাস্টার্স থিসিস ডিফেন্ড করেন।

তালিকায় স্থান পাওয়া আরেক বাংলাদেশি ড. তাহমিদ আহমেদ বর্তমানে আইসিডিডিআর,বির নির্বাহী পরিচালক। মা ও শিশুর পুষ্টিহীনতা দূরীকরণ এবং ডায়রিয়া প্রতিরোধে তার দীর্ঘদিনের গবেষণা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত।

অন্যদিকে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) ডাইস অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন শায়ক পরিবেশবান্ধব টেক্সটাইল উৎপাদন ও কম কার্বন নির্গমন প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করছেন।

তার প্রতিষ্ঠিত ডিকার্বোনাইজেশন ল্যাব–এ কম ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী উপায়ে কাপড়ে রং করার প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কাজ চলছে।

গবেষকদের এ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিকে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও গবেষণা খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন