২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ডেপুটি চিফ অব মিশন জন এফ ড্যানিলোভিচ। তার মতে, ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে বাংলাদেশ এখন আরও কৌশলগত কূটনীতির পথে এগোচ্ছে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ দুই দেশের সম্পর্কে নতুন মাত্রার জটিলতা তৈরি করেছে। তার ভাষায়, বাংলাদেশে ভারতের একচ্ছত্র প্রভাবের যুগ শেষ হয়েছে এবং বর্তমান সরকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে ধীর কিন্তু সুস্পষ্ট নীতি অনুসরণ করছে।
ড্যানিলোভিচের মতে, ইতিহাস ও ভৌগোলিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হলেও উভয় দেশের জনমতের পরিবর্তন এবং বাংলাদেশকে ঘিরে ভারতে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বাংলাদেশের বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন। মিয়ানমারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দেশটির সঙ্গে অর্থনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোও স্বাভাবিক পদক্ষেপ। তবে দক্ষ কূটনীতি বজায় রাখতে পারলে এতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বলেও তিনি মনে করেন।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে বিপুলসংখ্যক শরণার্থীর দায়িত্ব একা বাংলাদেশের পক্ষে বহন করা কঠিন। তাই রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে মিয়ানমারসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো বাস্তবসম্মত উদ্যোগ হতে পারে। এ বিষয়ে প্রচলিত কিছু সমালোচনা ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) কার্যত স্থবির হয়ে পড়ায় বাংলাদেশ আসিয়ান ও ডি-৮ জোটের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন ড্যানিলোভিচ। তিনি বলেন, আসিয়ানের অংশীদার হওয়ার প্রচেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকা দেশটির কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা কৌশলগত অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটিও দুই দেশের জনগণের সম্পর্ক আরও গভীর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

