টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে রাঙামাটির সাজেক ভ্যালিতে আটকা পড়েছেন পাঁচ শতাধিক পর্যটক। একই সঙ্গে পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সাজেকসহ জেলার সব পর্যটনকেন্দ্রে সাময়িকভাবে ভ্রমণ নিষিদ্ধ করেছে জেলা প্রশাসন।
বুধবার দুপুরে বাঘাইছড়ি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, খাগড়াছড়ির দিঘীনালা-বাঘাইহাট-সাজেক সড়কের একাধিক নিচু স্থানে পাহাড়ি ঢলের পানি উঠে যাওয়ায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ফলে সাজেকে অবস্থানরত পাঁচ শতাধিক পর্যটক ফিরতে পারছেন না।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটকদের নিরাপদে বিভিন্ন রিসোর্ট, কটেজ ও আবাসনকেন্দ্রে অবস্থান করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সড়কের পানি নেমে গিয়ে যাতায়াত নিরাপদ হলেই পর্যায়ক্রমে তাদের গন্তব্যে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
ইউএনও জানান, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পাহাড়ি এলাকায় ২৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হওয়ায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে পাহাড়ি ছড়া ও ঝিরির পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় জেলা প্রশাসন নতুন করে কোনো পর্যটককে রাঙামাটার পাহাড়ি পর্যটন এলাকায় ভ্রমণ না করার আহ্বান জানিয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত জেলার সব পর্যটন স্পটে ভ্রমণ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।
সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় রাঙামাটির ১০ উপজেলায় মোট ২১২টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, রাঙামাটি সদর, কাউখালী, কাপ্তাই ও বাঘাইছড়ি উপজেলার ১৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে ইতোমধ্যে ৭৪২ জন আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।
এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাঙামাটি জেলার সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

