বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

সরকারি চাকরিতে নতুন বেতনকাঠামো: সমান থাকছে না ইনক্রিমেন্ট হার

ডেস্ক রিপোর্ট।।

সরকারি চাকরিজীবীদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির (ইনক্রিমেন্ট) বিদ্যমান পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নবম জাতীয় বেতনকাঠামোর খসড়া প্রস্তাবে সব গ্রেডে সমান হারে ইনক্রিমেন্টের পরিবর্তে গ্রেডভিত্তিক ভিন্ন ভিন্ন হার নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। এতে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাবেন।

বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীরা সব গ্রেডেই গড়ে ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পান। তবে নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী ৬ষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত এ হার ৫ শতাংশই বহাল থাকবে। ৫ম গ্রেডের জন্য ৪ শতাংশ, ৩য় ও ৪র্থ গ্রেডের জন্য ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২য় গ্রেডের জন্য ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের সুপারিশ করা হয়েছে। ১ম গ্রেডের ইনক্রিমেন্টের হার পৃথকভাবে নির্ধারণ করা হবে।

সরকারের পরিচালিত এক জরিপে প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন। এতে মাত্র ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বর্তমান ইনক্রিমেন্ট পদ্ধতির পক্ষে মত দেন। অধিকাংশ অংশগ্রহণকারী মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং প্রকৃত অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীদের বেতন বাড়ানোর বিষয়ে ব্যাপক সমর্থন পাওয়া গেছে।

নতুন বেতনকাঠামোয় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন গ্রেডের বেতনের ব্যবধান ১:৯ দশমিক ৪ থেকে কমিয়ে ১:৭ দশমিক ৫-এ আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন স্কেল কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে মূল বেতন বৃদ্ধি কার্যকর হবে, আর বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা ২০২৭-২৮ অর্থবছর থেকে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘লিভিং স্ট্যান্ডার্ড সার্ভে ২০২৫’-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে একটি পরিবারের গড় মাসিক ব্যয় ৩৫ হাজার ৩১১ টাকা। এই ব্যয়ের বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই নতুন বেতনকাঠামো প্রণয়নের কাজ চলছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমানে ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর বেতন-ভাতা যেখানে ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা, নতুন কাঠামো কার্যকর হলে তা প্রায় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকায় উন্নীত হতে পারে।

এদিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ দ্রুত মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় তোলা হতে পারে। অর্থমন্ত্রীর অনুমোদনের পর অর্থ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করবে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন