ডেস্ক রিপোর্ট।।
লিভার ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় তেমন কোনো স্পষ্ট লক্ষণ প্রকাশ করে না। ফলে রোগটি নীরবে অগ্রসর হয় এবং শনাক্ত হতে দেরি হয়। তবে কিছু সাধারণ উপসর্গ রয়েছে, যেগুলো দীর্ঘদিন ধরে দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
লিভার ক্যানসারের অন্যতম লক্ষণ হলো কোনো কারণ ছাড়াই দ্রুত ওজন কমে যাওয়া। খাদ্যাভ্যাস বা শরীরচর্চায় পরিবর্তন না আনলেও যদি অস্বাভাবিকভাবে ওজন কমতে থাকে, তাহলে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।
এ ছাড়া পেটের ডান পাশের ওপরের অংশে ব্যথা, চাপ বা ভারীভাব অনুভূত হওয়াও লিভারের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। দীর্ঘদিন এ ধরনের অস্বস্তি থাকলে চিকিৎসা পরীক্ষা প্রয়োজন।
ত্বক ও চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া বা জন্ডিসও লিভারের কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। লিভার ঠিকমতো কাজ না করলে শরীরে বিলিরুবিন জমে গিয়ে এমন পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
ক্ষুধামান্দ্য, অল্প খেয়েই পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতি, বমি বমি ভাব বা বমিও লিভার ক্যানসারের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন অতিরিক্ত ক্লান্তি বা দুর্বলতা অনুভব করলেও তা অবহেলা করা উচিত নয়।
এ ছাড়া পেট ফুলে যাওয়া, ত্বকে চুলকানি, গাঢ় রঙের প্রস্রাব এবং ফ্যাকাশে বা ধূসর রঙের মলও সতর্ক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তবে মনে রাখতে হবে, এসব উপসর্গ শুধু লিভার ক্যানসারের জন্যই নয়; হেপাটাইটিস, ফ্যাটি লিভার, পিত্তনালির সমস্যা কিংবা অন্যান্য রোগেও দেখা দিতে পারে। তাই উপসর্গের ভিত্তিতে নিজে থেকে রোগ নির্ণয় না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব লক্ষণ দুই থেকে তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে হেপাটোলজিস্ট বা গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী লিভার ফাংশন টেস্ট (LFT), আল্ট্রাসনোগ্রাম, সিটি স্ক্যান বা অন্যান্য পরীক্ষা করানো উচিত। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত হলে চিকিৎসার সফলতার সম্ভাবনাও অনেক বেড়ে যায়।

