জলবায়ু উদ্বাস্তু ও অসহায় মানুষের সহায়তার লক্ষ্যে সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত ‘ইন্টিগ্রেট’ প্রকল্পটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। উপকারভোগীদের জন্য মাত্র ৮ কোটি টাকার সহায়তার বিপরীতে প্রশাসনিক ও পরামর্শক ব্যয় ৫৩ কোটি টাকার বেশি নির্ধারণ করায় প্রকল্পটি নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এ বিষয়ে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাতিল করা হয়েছে।
জানা গেছে, পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় প্রকল্পটির ব্যয় কাঠামো নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ওঠে। সভায় অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা প্রশাসনিক ব্যয়, দেশি-বিদেশি পরামর্শক নিয়োগ, বিদেশ সফর এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খাতে প্রস্তাবিত ব্যয়কে অস্বাভাবিক ও অগ্রহণযোগ্য বলে মত দেন। পরে প্রকল্পটি অনুমোদন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জার্মান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জিআইজেড)-এর অর্থায়নে প্রায় ৬১ কোটি ৩০ লাখ টাকার এ প্রকল্পটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছিল। প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল খুলনা, সাতক্ষীরা, রাজশাহী ও সিরাজগঞ্জের ৩০০ জন জলবায়ু-প্রভাবিত ও অসহায় মানুষকে ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য অনুদান দেওয়া।
তবে প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, মোট বাজেটের মধ্যে উপকারভোগীদের জন্য বরাদ্দ ছিল মাত্র ৮ কোটি ১০ লাখ ৯০ হাজার টাকা, যা মোট ব্যয়ের প্রায় ১৩ শতাংশ। অপরদিকে প্রশাসনিক ব্যয়, অফিস পরিচালনা, দেশি-বিদেশি পরামর্শক, বিদেশ ও অভ্যন্তরীণ ভ্রমণসহ বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ৫৩ কোটি টাকারও বেশি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পের সময়োপযোগিতা, উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং ব্যয় পরিকল্পনা নিয়ে সভায় গুরুতর আপত্তি তোলা হয়। পিইসি সভার কার্যবিবরণী এখনো চূড়ান্ত না হলেও প্রকল্পটি অনুমোদনের সম্ভাবনা নেই বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এর আগে একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকল্পটির ব্যয় কাঠামো নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এরপরই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্পটি পুনর্বিবেচনা করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত তা বাতিলের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

