তিন কর্মকর্তাকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত; আরও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা পর্যায়ক্রমে নেওয়ার ইঙ্গিত
ঢাকা: ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত পুলিশ বাহিনীর প্রায় ৮০ জন ক্যাডার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে তিন কর্মকর্তাকে চূড়ান্তভাবে চাকরিচ্যুত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে ডিআইজি থেকে শুরু করে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদমর্যাদার সদস্যও রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, বিস্ফোরক আইনে মামলা এবং অন্যান্য অভিযোগ বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। প্রশাসনিক তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে ৩৩তম বিসিএসের মিশু বিশ্বাস, জুয়েল চাকমা এবং ৩৬তম বিসিএসের মাহমুদুল হাসানকে চাকরিচ্যুত করা হয়। সরকারি নথিতে তাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তালিকাভুক্ত কর্মকর্তাদের অনেকেই বর্তমানে কর্মস্থলে অনুপস্থিত এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মামলা বিচারাধীন রয়েছে। কয়েকজন কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় রয়েছেন বলেও জানা গেছে।
তালিকায় সাবেক ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশিদ, অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ার্দার, সাবেক ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, এসএম মেহেদী হাসান, কেএম এহসানউল্লাহসহ আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নাম রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের ফৌজদারি মামলা ও প্রশাসনিক তদন্ত চলমান রয়েছে।
এছাড়া অতিরিক্ত এসপি এসএম শামীম, সহকারী কমিশনার গোলাম রুহানী, এএসপি মো. আরিফুজ্জামানসহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (শৃঙ্খলা) কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পুলিশের ৮০ জন ক্যাডার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে তিন কর্মকর্তাকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও আইন ও সরকারি বিধি অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। মামলাগুলোর বিচার ও তদন্ত এখনো চলমান থাকায় অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হওয়া বাকি রয়েছে।

