রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

নির্মাণের আগেই পরামর্শে ব্যয় ২৩১ কোটি টাকা

অনলাইন ডেস্ক

দুই দশকের বেশি সময় ধরে আলোচনায় থাকা বগুড়া-সিরাজগঞ্জ ডুয়েলগেজ রেলপথ প্রকল্পে অবশেষে দৃশ্যমান অগ্রগতি শুরু হয়েছে। বগুড়া অংশে ভূমি অধিগ্রহণের যৌথ তদন্ত শেষ হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ক্ষতিপূরণের অর্থ বিতরণও শুরু হয়েছে। তবে প্রকল্পের মূল নির্মাণকাজ এখনো শুরু না হলেও পরামর্শক খাতে ব্যয় তিন গুণের বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হয়। সভায় বিশেষভাবে পরামর্শক ব্যয় ৬৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ২৩১ কোটি ৭১ লাখ টাকায় উন্নীত হওয়ার যৌক্তিকতা জানতে চাওয়া হয়েছে।

২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের সময় ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫ হাজার ৫৭৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘসূত্রতা, ভূমি অধিগ্রহণে বিলম্ব, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি এবং অর্থায়নের কাঠামো পরিবর্তনের কারণে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে বর্তমানে প্রায় ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

রেলওয়ে ও জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বগুড়া সদর, শাজাহানপুর, শেরপুর ও কাহালু উপজেলার ৪৮১ দশমিক ৯ একর জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৫৬টি মৌজার যৌথ তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। গত ২২ জুন ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ১ হাজার ৯৬৯ কোটি ১০ লাখ টাকার বরাদ্দ জেলা প্রশাসনের কাছে পৌঁছায় এবং বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ করা হচ্ছে।

বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) পি. এম. ইমরুল কায়েস বলেন, সরকার নির্ধারিত অর্থ ছাড় করেছে এবং আইন অনুযায়ী স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে। ভূমি অধিগ্রহণ শেষ হলে দ্রুত জমি বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

প্রকল্প পরিচালক আর জাহাঙ্গীর মিয়া বলেন, ভারতীয় ঋণের পরিবর্তে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি)-এর অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী অতিরিক্ত কারিগরি পরামর্শক, নকশা যাচাই এবং তদারকির প্রয়োজন হয়েছে। এ কারণেই পরামর্শক ব্যয় বেড়েছে। পিইসি সভায় উত্থাপিত সব প্রশ্নের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৮৬ দশমিক ২ কিলোমিটার নতুন ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ হবে। পাশাপাশি নয়টি স্টেশন, বড় দুটি সেতু, অসংখ্য কালভার্ট, লুপলাইন, আধুনিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা এবং অন্যান্য রেল অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। রেলওয়ের হিসাবে, এ রুট চালু হলে উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকার রেলপথ প্রায় ১১২ কিলোমিটার কমে যাবে এবং যাত্রাসময় ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে।

ব্যবসায়ী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন রেলপথ চালু হলে উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্য ও শিল্পপণ্য দ্রুত এবং কম খরচে দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করা সম্ভব হবে। এতে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা যেমন লাভবান হবেন, তেমনি ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের ওপরও চাপ কমবে।

তবে ভূমি অধিগ্রহণ শেষে এখনো আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান, ঠিকাদার নিয়োগ, অর্থায়নের চূড়ান্ত অনুমোদন এবং মূল নির্মাণকাজ শুরুসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ধাপ বাকি রয়েছে। অতীতে একাধিকবার সময় ও ব্যয় বৃদ্ধির অভিজ্ঞতার কারণে প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন