ইসলামী শরিয়তে পর্দার বিধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোরআন ও হাদিসে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য দৃষ্টি সংযত রাখা, শালীনতা বজায় রাখা এবং অনাত্মীয়দের সঙ্গে পর্দা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পবিত্র কোরআনের সুরা নুরের ৩১ নম্বর আয়াতে যেসব পুরুষের সামনে একজন নারী পর্দা ছাড়া থাকতে পারেন, তাদের তালিকা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন স্বামী, পিতা, শ্বশুর, ছেলে, স্বামীর ছেলে, ভাই, ভাইয়ের ছেলে ও বোনের ছেলে। অর্থাৎ এসব ব্যক্তি নারীর মাহরাম হিসেবে গণ্য হন।
ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমে কিছু নতুন মাহরাম সম্পর্কও সৃষ্টি হয়। যেমন—স্বামীর বাবা, দাদা ও পরদাদা স্ত্রীর জন্য মাহরাম। একইভাবে স্ত্রীর মা, নানি ও পরনানী স্বামীর জন্য মাহরাম হিসেবে বিবেচিত হন। এসব আত্মীয়ের ক্ষেত্রে পর্দার বিধান প্রযোজ্য নয়।
তবে আলেমদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমে স্বামীর চাচা, মামা, ফুফু বা খালা মাহরাম হয়ে যান না। ফলে স্বামীর চাচা ও মামা স্ত্রীর জন্য অনাত্মীয় (গায়রে মাহরাম) হিসেবে গণ্য হন। একইভাবে স্ত্রীর খালা ও ফুফুও স্বামীর জন্য মাহরাম নন।
এ কারণে ইসলামী বিধান অনুযায়ী, স্ত্রীর জন্য স্বামীর চাচা ও মামার সঙ্গে এবং স্বামীর জন্য স্ত্রীর খালা ও ফুফুর সঙ্গে পর্দা করা আবশ্যক বলে ফিকহবিদরা মত দিয়েছেন।

