ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের প্রকাশ্য শত্রু হলো শয়তান। কোরআনুল কারিমে বারবার সতর্ক করা হয়েছে, শয়তানের মূল উদ্দেশ্য মানুষকে আল্লাহর আনুগত্য, ইবাদত ও সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত করা। তাই মুমিনদের সবসময় তার কুমন্ত্রণা সম্পর্কে সচেতন থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা সুরা ফাতিরের ৬ নম্বর আয়াতে বলেন, “নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের শত্রু। অতএব তোমরা তাকে শত্রুরূপেই গ্রহণ করো। সে তার অনুসারীদের কেবল জাহান্নামের অধিবাসী হওয়ার দিকেই আহ্বান করে।” এই আয়াত থেকে স্পষ্ট হয়, শয়তান কখনো মানুষের কল্যাণ চায় না; বরং তার লক্ষ্য মানুষকে চিরস্থায়ী ক্ষতির পথে নিয়ে যাওয়া।
সুরা আরাফের ১৬-১৭ নম্বর আয়াতে ইবলিসের সেই অঙ্গীকারের কথা এসেছে, যেখানে সে ঘোষণা করে যে মানুষের সামনে, পেছনে, ডান ও বাম দিক থেকে এসে তাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, শয়তান বিভিন্ন উপায়ে মানুষকে গুনাহ, অবাধ্যতা ও আল্লাহকে ভুলে থাকার দিকে ধাবিত করে।
এছাড়া সুরা মায়িদার ৯১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, শয়তান মদ ও জুয়ার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি করতে এবং তাদের আল্লাহর স্মরণ ও সালাত থেকে দূরে রাখতে চায়। একইভাবে সুরা বাকারার ১৬৯ নম্বর আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে, শয়তান মানুষকে মন্দ কাজ, অশ্লীলতা এবং আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান ছাড়া কথা বলতে প্ররোচিত করে।
কোরআনে আরও নির্দেশ এসেছে, “তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না।” (সুরা বাকারা: ১৬৮)। ইসলামি শিক্ষায় বলা হয়, শয়তান সাধারণত ধাপে ধাপে মানুষকে গুনাহের দিকে নিয়ে যায়। ছোট অপরাধকে তুচ্ছ মনে করিয়ে বড় গুনাহের দিকে ঠেলে দেওয়াই তার অন্যতম কৌশল।
সহিহ মুসলিমে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ইবলিস তার অনুসারীদের মধ্যে সেই শয়তানকেই সবচেয়ে বেশি মূল্যায়ন করে, যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতে সক্ষম হয়। এ থেকেই পারিবারিক অশান্তি ও সম্পর্কের অবনতিকে শয়তানের বড় সফলতা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
সুরা নাসে মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা সৃষ্টিকারী শয়তানের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। ইসলামি শিক্ষায় বলা হয়, সন্দেহ সৃষ্টি, গুনাহকে আকর্ষণীয় করে তোলা এবং তাওবা থেকে বিরত রাখাও শয়তানের অন্যতম কৌশল।
শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচতে কোরআন-হাদিসে কয়েকটি আমলের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা, নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত, বিশেষ করে সুরা বাকারা পাঠ, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়, সকাল-সন্ধ্যার জিকির এবং গুনাহ হয়ে গেলে দ্রুত তাওবা ও ইস্তিগফার করা।
ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, যে ব্যক্তি কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা মেনে চলে, নিয়মিত ইবাদত করে এবং আল্লাহর সাহায্য কামনা করে, আল্লাহ তাকে শয়তানের ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করেন।

