ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের পর প্রতিশোধের ঘোষণা ঘিরে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে দেশটির প্রভাবশালী গণমাধ্যম হামশাহরি। পত্রিকাটির অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত এক ইনফোগ্রাফিকে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও ইসরায়েলের কয়েকজন শীর্ষ নেতার ছবি প্রকাশ করা হয়েছে, যাদের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে।
শনিবার গভীর রাতে প্রকাশিত ওই ইনফোগ্রাফিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ছবি রয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এবং জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎসের ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে।
এর আগে ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এক বিবৃতিতে তার বাবার হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, এই প্রতিশোধ শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং পুরো জাতির প্রত্যাশা। তবে তিনি কোনো ব্যক্তি বা দেশের নাম উল্লেখ করেননি।
এএফপির তথ্য অনুযায়ী, ইনফোগ্রাফিকে মোট ১৩ জন বিদেশি নেতার ছবি থাকলেও সবার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। এটি শুধুমাত্র হামশাহরির অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে; রোববারের মুদ্রিত সংস্করণে সেটি ছিল না।
এদিকে প্রকাশিত তালিকাটি ইরানের সরকার বা শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনপ্রাপ্ত কি না, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে হামশাহরি তেহরানের সরকারি মহলের ঘনিষ্ঠ ও প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম হিসেবে পরিচিত।
এর আগে তেহরান অভিযোগ করেছিল, সাম্প্রতিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সময় কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ভূখণ্ড ও আকাশসীমা ব্যবহারের সুযোগ দেয়। ইরানের দাবি, এ কারণে ওই দেশগুলোও ওয়াশিংটনের সহযোগী হিসেবে বিবেচিত।
ইরানি গণমাধ্যমে এমন ইনফোগ্রাফিক প্রকাশের পর মধ্যপ্রাচ্যসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ও কূটনৈতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

