নতুন অর্থবছরের শুরুতেই রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। জুলাইয়ের প্রথম ১২ দিনেই দেশে এসেছে ১৩২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বেশি। ধারাবাহিক এই প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মূল প্রতিবেদন:
চলতি জুলাই মাসের প্রথম ১২ দিনে দেশে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। সোমবার (১৩ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ে দেশে এসেছিল ১০৭ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার। সে হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স বেড়েছে ২৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
এর আগে জুন মাসে দেশে আসে ২৮১ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৫১ কোটি ৫১ লাখ ডলার, বিশেষায়িত ব্যাংকের মাধ্যমে ৪৪ কোটি ১৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার, বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ১৮৫ কোটি ৩৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে ৬৬ লাখ ১০ হাজার ডলার।
চলতি বছরের আগের মাসগুলোতেও প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ছিল শক্তিশালী। মার্চে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স আসে। এরপর এপ্রিলে আসে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার এবং মে মাসে আসে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার ডলার, যা এক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্সের রেকর্ড।
এছাড়া জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স আসে। গত বছরের শেষ ছয় মাসেও প্রবাসী আয় ধারাবাহিকভাবে ২৪০ থেকে ৩২০ কোটি ডলারের মধ্যে ছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে মোট ৩ হাজার ৫৫৬ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার বা ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের নতুন রেকর্ড।

