রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

১৯ বছর আগে নিজ হাতে গোসল করানো সেই শিশুই এবার মেসির প্রতিপক্ষ

নিউজ ডেস্ক

ফুটবলে এমন গল্প খুব কমই লেখা হয়, যেখানে নিয়তি নিজেই চিত্রনাট্যকার। প্রায় দুই দশক আগে বার্সেলোনার এক দাতব্য ফটোশুটে তরুণ লিওনেল মেসির কোলে ছিল কয়েক মাস বয়সী এক শিশু। উনিশ বছর পর সেই শিশুই—লামিন ইয়ামাল—বিশ্বকাপের ফাইনালে দাঁড়াতে যাচ্ছেন মেসির বিপরীতে।

ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসির দুটি দুর্দান্ত অ্যাসিস্টে নিশ্চিত হয় এই জয়। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে এবার তাদের প্রতিপক্ষ টুর্নামেন্টজুড়ে দারুণ ছন্দে থাকা স্পেন।

একদিকে ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আরও একটি বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছেন মেসি, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবেন স্পেনের তরুণ বিস্ময় লামিন ইয়ামাল।

এই গল্পের শুরু ২০০৭ সালে। কাতালান সংবাদপত্র দিয়ারিও স্পোর্ত আয়োজিত ইউনিসেফের একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের ফটোশুটে অংশ নিয়েছিলেন ২০ বছর বয়সী মেসি। সেই আয়োজনের অংশ হিসেবে বার্সেলোনার ফুটবলারদের সঙ্গে স্থানীয় পরিবারের শিশুদের ছবি তোলা হয়। ভাগ্যের পরিহাসে মেসির কোলে তুলে দেওয়া হয়েছিল কয়েক মাস বয়সী লামিন ইয়ামালকে।

ছবিতে দেখা যায়, মেসি শিশুটিকে স্নেহভরে গোসল করিয়ে কোলে নিয়ে ছবি তুলছেন। তখন কেউ কল্পনাও করেননি, সেই শিশুই একদিন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে উঠবেন।

দীর্ঘদিন ছবিগুলো সবার অগোচরেই ছিল। ২০২৪ সালে ইয়ামালের বাবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিগুলো প্রকাশ করলে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। ফুটবলপ্রেমীরা বিস্ময়ে দেখেন, মেসির কোলে থাকা সেই শিশুই আজ বার্সেলোনা ও স্পেনের সবচেয়ে আলোচিত তারকা।

এরপর থেকেই ইয়ামাল নিজের প্রতিভার ঝলক দেখিয়ে একের পর এক রেকর্ড গড়েছেন। অসাধারণ ড্রিবলিং, সৃজনশীলতা এবং পরিণত ফুটবলবোধে অল্প বয়সেই তিনি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় আকর্ষণে পরিণত হয়েছেন।

অন্যদিকে বয়সকে যেন চ্যালেঞ্জ জানিয়ে খেলেই চলেছেন মেসি। ৩৯ বছর বয়সেও আর্জেন্টাইন অধিনায়ক সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি অসাধারণ অ্যাসিস্ট করে দলকে ফাইনালে তুলেছেন।

এখন বিশ্ব ফুটবলের চোখ ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে। এক পাশে ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি, অন্য পাশে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য মহাতারকা লামিন ইয়ামাল।

যে শিশুকে একদিন স্নেহভরে কোলে নিয়েছিলেন মেসি, সেই ইয়ামালই এবার বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে দাঁড়াবেন তার প্রতিপক্ষ হিসেবে। বার্সেলোনার এক দাতব্য ফটোশুটে শুরু হওয়া সেই গল্পের শেষ অধ্যায় লেখা হবে বিশ্বকাপের ফাইনালে। এখন অপেক্ষা—শেষ হাসি কে হাসবেন, কিংবদন্তি নাকি নতুন প্রজন্মের প্রতীক।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন