বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

আগে এত উন্নয়নের গল্প শুনতাম, সেগুলো আসলে কোথায়–প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর

নিউজ ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দীর্ঘ ১৭ বছরেও দেশের নানা মৌলিক সমস্যার সমাধান না হওয়ায় বর্তমান সরকারকে একসঙ্গে বহু সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, অতীতে যেসব উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে, বাস্তবে তার প্রতিফলন পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে জনগণের উচ্চ প্রত্যাশার ভার এখন বর্তমান সরকারের কাঁধে এসে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “দেশে এত সমস্যা এখনও বিরাজমান দেখে আমি বিস্মিত হই। ১৭ বছরে এসব সমস্যার সমাধান হওয়ার কথা ছিল। তখন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হলে আজ অনেক সংকটই থাকত না।”

তিনি আরও বলেন, “আগে উন্নয়নের অনেক গল্প শুনতাম, কিন্তু সেগুলোর বাস্তবতা কোথায়? এখন সব চাপ বর্তমান সরকারের ওপর এসে পড়েছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আমরা সেই পরিস্থিতি থেকে দেশকে ঘুরে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছি।”

সভায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা পৃথক ভূমি কমিশন গঠন, জাতিভিত্তিক পরিচয়ের স্বীকৃতি, আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, ভূমির মালিকানা নিশ্চিতকরণ, কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ঋণ সুবিধা এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও সংরক্ষিত বনাঞ্চলের নামে উচ্ছেদ বন্ধসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং বিষয়গুলো পর্যায়ক্রমে বিবেচনার আশ্বাস দেন।

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীকে দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে কোনো জাতি বা জনগোষ্ঠী বৈষম্যের শিকার হবে না। সবার অংশগ্রহণে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গড়াই সরকারের লক্ষ্য।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, অতীত সরকারের সময়ে প্রতি বছর প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। এই অর্থ দেশেই বিনিয়োগ করা গেলে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ সাধারণ মানুষের অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব হতো। সরকার বাস্তবসম্মত অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে পর্যায়ক্রমে সমস্যাগুলোর সমাধানে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ অনেক বড়। এই পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, অতীত সরকারের কারণে এসব খাত ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সক্ষমতা বাড়াতে বর্তমান সরকার সেগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। পাশাপাশি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং কিডনি ডায়ালাইসিস, হার্টের রিংসহ জরুরি চিকিৎসাসামগ্রীর ওপর কর কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য আন্না মিনজ, সংস্কৃতিকর্মী সঞ্জীব দ্রং এবং দেশের ১৭ জেলার ১৮টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন