রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই ইউক্রেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন জ্বালানি খাতের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা সের্গেই কোরেৎস্কি। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দেশটির পার্লামেন্ট তার নিয়োগ অনুমোদন করেছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ঘোষিত মন্ত্রিসভার পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে তিনি যুদ্ধকালীন সময়ের তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী হলেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪৮ বছর বয়সী কোরেৎস্কি পেশায় একজন প্রকৌশলী ও অর্থনীতিবিদ। সরকারি প্রশাসনে এটি তার প্রথম দায়িত্ব। তিনি এর আগে কখনও কোনো সরকারি পদে কাজ করেননি এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন না।
রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ ও দক্ষ ব্যবস্থাপক হিসেবে পরিচিত কোরেৎস্কির এই ভাবমূর্তি তার নিয়োগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইউক্রেনের পেন্টা থিংক ট্যাংকের পরিচালক ভলোদিমির ফেসেঙ্কোর মতে, রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা এবং দীর্ঘদিনের ব্যবস্থাপনা অভিজ্ঞতাই তাকে এই দায়িত্বের জন্য উপযুক্ত করেছে।
জ্বালানি খাতে দুই দশকের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে কোরেৎস্কির। তেল উৎপাদন, পরিশোধন, জ্বালানি সরবরাহ, খুচরা ও পাইকারি ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক অর্থায়ন খাতে তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন।
২০২৫ সালের মে মাস থেকে তিনি ইউক্রেনের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান নাফতোগাজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে নাফতোগাজ গ্রুপের আওতাধীন দেশটির বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইউক্রনাফতারও নেতৃত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি ওয়েস্টার্ন অয়েল গ্রুপ, কন্টিনিয়াম গ্রুপ এবং ইউক্রেনের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি স্টেশন চেইন ডব্লিউজিওজি’র প্রধান নির্বাহী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
পশ্চিম ইউক্রেনের লুতস্ক শহরে জন্ম নেওয়া কোরেৎস্কি ব্যবসায়ী হিসেবেও পরিচিত। জ্বালানি খাতে কাজের পাশাপাশি তিনি একটি কফি চেইন ব্যবসাও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
নতুন প্রধানমন্ত্রীর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে আসন্ন শীত মৌসুমের প্রস্তুতিকে। গত শীতে রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলায় ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোর বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, নতুন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হবে আসন্ন শীতের জন্য দেশকে প্রস্তুত করা এবং যুদ্ধকালীন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সচল রাখা।

