হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে সৌদি আরবে বিভিন্ন সেবার ব্যয় বৃদ্ধি, বাধ্যতামূলক ক্যাটারিং ব্যবস্থা এবং রিয়ালের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে ২০২৭ সালের হজে মোট খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুটি হজ প্যাকেজ রাখা হচ্ছে। চলতি বছরের ব্যয়বহুল প্যাকেজ-১ বাদ দেওয়া হচ্ছে। সরকারি প্যাকেজ ঘোষণার পর বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোও নিজেদের প্যাকেজ প্রকাশ করবে।
সৌদি আরবের নির্ধারিত নতুন রোডম্যাপ অনুযায়ী, ২০২৭ সালের হজের প্রস্তুতি আগেভাগেই শুরু হয়েছে। সে কারণে দ্রুত হজ প্যাকেজ ঘোষণা করতে চাইলেও বিমান ভাড়া চূড়ান্ত না হওয়ায় তা এখনো সম্ভব হয়নি। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ১৯ বা ২০ জুলাই প্যাকেজ ঘোষণা করা হতে পারে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, বিমান ভাড়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তাই প্যাকেজ ঘোষণা বিলম্বিত হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রোববারের মধ্যেই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। অন্যথায় প্রস্তুতির সময় কমে যাওয়ায় সংশ্লিষ্টদের ওপর চাপ বাড়বে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছর হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া ছিল এক লাখ ৫৪ হাজার ৮৩০ টাকা। এবার বিমানের পক্ষ থেকে তা কমিয়ে প্রায় এক লাখ ৪২ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে ধর্ম মন্ত্রণালয় আরও কমানোর বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দাবি, গত বছরের তুলনায় কমপক্ষে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া কমানো সম্ভব হতে পারে।
এদিকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স সরকারকে জনপ্রতি ৯৮ হাজার টাকায় হজযাত্রী পরিবহনের প্রস্তাব দিয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয় বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তবে বিমান ভাড়া কমলেও সৌদি আরবের নতুন নীতিমালার কারণে অন্যান্য ব্যয় বাড়ছে। আগামী বছর থেকে বাধ্যতামূলক কমপ্রিহেনসিভ সার্ভিস চালু হচ্ছে। পাশাপাশি সাশ্রয়ী ‘ডি’ ক্যাটাগরির সেবা বাতিল করে ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ ক্যাটাগরির সেবা রাখা হচ্ছে। এছাড়া বাধ্যতামূলক ক্যাটারিং ব্যবস্থা চালু হওয়ায় শুধু খাবার বাবদই জনপ্রতি প্রায় ৪০ হাজার টাকা অতিরিক্ত যুক্ত হবে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, মোট ব্যয়ের বড় অংশই সৌদি আরবে নির্ধারিত বিভিন্ন সেবার ওপর নির্ভরশীল। তার ভাষায়, “পাঁচ টাকা খরচ হলে চার টাকাই যায় সৌদি আরবের বিভিন্ন সেবায়, আমাদের অংশ মাত্র এক টাকা।” তিনি আরও জানান, সৌদি রিয়ালের বিনিময় হার বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত আবাসন সংক্রান্ত নতুন নিয়মও ব্যয় বাড়াচ্ছে।
হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, হজযাত্রীদের জন্য যৌক্তিক বিমান ভাড়া নির্ধারণ করা জরুরি। তবে সৌদি প্রান্তে ব্যয় বাড়ায় সবকিছু সমন্বয় করে একটি গ্রহণযোগ্য হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা হবে বলেই তাদের প্রত্যাশা। সরকার প্যাকেজ ঘোষণা করলেই বেসরকারি এজেন্সিগুলোও নিজেদের প্যাকেজ প্রকাশ করবে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০২৭ সালের ১৫ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সৌদি আরবের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হজযাত্রীদের নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।

