যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাত তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহসহ আঞ্চলিক মিত্র ও প্রক্সি সংগঠনগুলোকে সম্ভাব্য সর্বাত্মক যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে ইরান।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে টাইমস অব ইসরায়েল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, লেবাননের সংবাদপত্র নিদাআ আল ওয়াতান দাবি করেছে, তেহরানে সাবেক ইরানি সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির জানাজা উপলক্ষে আয়োজিত একটি গোপন বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই বৈঠকে ইরানের নেতৃত্বাধীন ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’-এর শীর্ষ নেতাদের জানিয়ে দেওয়া হয়, অপেক্ষার সময় শেষের দিকে এবং সম্ভাব্য সব ধরনের সামরিক পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নেওয়াই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া প্রাথমিক শান্তি চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে। সর্বশেষ মার্কিন বিমান হামলায় ইরানে আটজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জর্ডান ও কাতারে মোতায়েন মার্কিন যুদ্ধবিমান এবং রাডার স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে কুয়েত জানিয়েছে, ইরানি ড্রোন হামলায় দেশটির একটি পানি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কয়েকজন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন।
বর্তমান উত্তেজনার মধ্যেও ইসরায়েল সরাসরি এই সংঘাতে অংশ নেয়নি এবং তেহরানও ইসরায়েলের ভূখণ্ডে সরাসরি হামলা চালায়নি। তবে ইরানি কর্মকর্তারা হিজবুল্লাহকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন এবং সতর্ক করেছেন, সামনে শুরু হতে পারে আগের যেকোনো সংঘাতের তুলনায় আরও বিস্তৃত ও ভয়াবহ যুদ্ধ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন আঞ্চলিক মিত্রের সক্ষমতা কমে গেলেও তেহরান এখনো হিজবুল্লাহকে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য সামরিক মিত্র হিসেবে বিবেচনা করছে।
উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলার মাধ্যমে হিজবুল্লাহ এই আঞ্চলিক সংঘাতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়। এরপর বৈরুত ও জেরুজালেমের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উদ্যোগেরও বিরোধিতা করে সংগঠনটি।
এর জবাবে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়ে একটি বাফার জোন গড়ে তোলে। পাশাপাশি ২০২৪ সালের সংঘাতে হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতৃত্বের বড় একটি অংশকে নির্মূল করার দাবি করে তেল আবিব। অন্যদিকে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরাও অতীতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে এবং বৃহত্তর এই সংঘাতে তাদেরও সম্পৃক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

