বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

আগামী মাসেই শুরু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’ প্রকল্পের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম

নিউজ ডেস্ক

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ সুবিধাসংবলিত ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পরীক্ষামূলকভাবে আগামী মাসের মাঝামাঝি এ কার্যক্রম শুরু হবে। প্রথম ধাপে জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে কার্ড ইস্যু করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে এর কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রবাসী কার্ড–সংক্রান্ত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন।

তিনি জানান, প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, আর্থিক ক্ষমতায়ন, বিভিন্ন প্রণোদনা প্রদান এবং ডুয়াল কারেন্সি কার্ডের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ও ব্যাংকিং সুবিধা নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

শাহাদাৎ স্বাধীন বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ক্রীড়া কার্ড বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। একই ধারাবাহিকতায় চালু হচ্ছে প্রবাসী কার্ড।

সভায় জানানো হয়, প্রবাসী কার্ডধারীরা দেশে ও বিদেশে একাধিক বিশেষ সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে—আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কমপ্লিমেন্টারি লাউঞ্জ ব্যবহার, বিশেষ ইমিগ্রেশন বুথে দ্রুত সেবা, ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ সুবিধা, বিমান টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ে ছাড়, গাড়ি বুকিং এবং সিগনেচার কার্ডধারীদের জন্য এয়ারপোর্ট পিক-অ্যান্ড-ড্রপ সেবা।

এ ছাড়া সরকারি হাসপাতালে প্রবাসী সেবা বুথ, বেসরকারি হাসপাতালে বিশেষ ছাড়, কার্ডধারীর মৃত্যু হলে বিনা খরচে মরদেহ দেশে আনা, প্রবাসফেরতদের পুনর্বাসন ও বীমা সুবিধা, জমি রেজিস্ট্রেশন, নামজারি, ইউটিলিটি সংযোগ, লাইসেন্স এবং বৈদেশিক বিনিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

আর্থিক সুবিধার মধ্যে থাকবে রেমিট্যান্স রিওয়ার্ড পয়েন্ট, ক্রেডিট স্কোরিংয়ের ভিত্তিতে ঋণ সুবিধা, কার্ডের মাধ্যমে সহজে অর্থ লেনদেন এবং সরাসরি টাকা পাঠানোর সুযোগ। পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট, কনস্যুলার সেবা, ব্যাংকিং এবং সরকারের অন্যান্য সেবায়ও অগ্রাধিকার পাবেন কার্ডধারীরা।

উপ-প্রেস সচিব জানান, আগামী মাসের মাঝামাঝি পরীক্ষামূলকভাবে প্রবাসী কার্ড চালু হবে। প্রথম পর্যায়ে জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে কার্ড বিতরণ শুরু হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ হাজার এবং আগামী বছরের জুনের মধ্যে ২ লাখ প্রবাসীর হাতে এ কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী কার্ডের সব কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

সভায় প্রধানমন্ত্রী জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে আরও সময়োপযোগী ও আধুনিক করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত সব বাংলাদেশি প্রবাসী যেন পর্যায়ক্রমে প্রবাসী কার্ডের আওতায় আসতে পারেন, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেন।

বৈঠকে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও মাহদী আমিন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ সচিব মোখতার আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, বিএমইটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন