রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

এআইকে আরও গতিশীল করছে স্মার্টফোন প্রযুক্তি: টেলিনর এশিয়া

নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্রুত মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠছে। অনলাইন শিক্ষা, আর্থিক সেবা, দূরবর্তী কাজ থেকে শুরু করে তথ্য অনুসন্ধান—সব ক্ষেত্রেই মোবাইল ফোন এখন দেশের ডিজিটাল রূপান্তরের প্রধান চালিকাশক্তি। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে বাংলাদেশের ৯৬ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী নিয়মিত এআই ব্যবহার করেন, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি।

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) প্রকাশিত ‘টেলিনর এশিয়া ডিজিটাল লাইভস ডিকোডেড ২০২৫: বিল্ডিং ট্রাস্ট ইন বাংলাদেশ’স এআই ফিউচার’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বাংলাদেশের এক হাজার ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ওপর পরিচালিত জরিপের ভিত্তিতে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অনলাইন শিক্ষা, আর্থিক সেবা গ্রহণ, কর্মক্ষেত্রের কাজ এবং দৈনন্দিন তথ্যপ্রাপ্তি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় সহজ হয়েছে। একই সঙ্গে এআই প্রযুক্তির বিস্তারে মানুষের জীবনধারা, কর্মসংস্থান এবং পারস্পরিক যোগাযোগেও দ্রুত পরিবর্তন আসছে।

টেলিনর এশিয়ার প্রধান ইওন ওমুন্ড রেভহগ বলেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরে মোবাইল ফোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং একটি আরও স্মার্ট ও সংযুক্ত সমাজ গঠনে এটি কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। তিনি বলেন, এআই ব্যবহারের বিস্তার টেলিকম অপারেটরদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল অবকাঠামো নির্মাণে নতুন সুযোগ ও দায়িত্ব তৈরি করেছে।

অনলাইন শিক্ষা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বাড়ছে মোবাইলের ব্যবহার

গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের ৬২ শতাংশ মানুষ অনলাইন শিক্ষায়, ৫৪ শতাংশ দূরবর্তী কর্মে এবং ৫০ শতাংশ আর্থিক ব্যবস্থাপনায় মোবাইল প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। গত এক বছরে দূরবর্তী কাজে মোবাইল ব্যবহারের হার ৩৯ শতাংশ এবং বাজেট ও ব্যয় ব্যবস্থাপনায় ৩৬ শতাংশ বেড়েছে।

প্রজন্মভেদে এআই ব্যবহারের ধরনেও পার্থক্য দেখা গেছে। বিশেষ করে মিলেনিয়াল প্রজন্ম স্মার্ট হোম, স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ এবং ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্টের মতো এআই-চালিত সেবার প্রতি সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখিয়েছে।

শিক্ষা ও অর্থনীতিতে বাড়ছে এআইয়ের সম্ভাবনা

জরিপে দেখা যায়, প্রায় ১০ জনের মধ্যে ৬ জন প্রতিদিন কোনো না কোনোভাবে এআই ব্যবহার করছেন। শিক্ষামূলক কনটেন্ট তৈরি, অফিসের কাজ, ব্যক্তিগত লেখালেখি, স্বাস্থ্য, আর্থিক পরিকল্পনা এবং ভ্রমণসংক্রান্ত পরামর্শের জন্যও অনেকেই এআইয়ের সহায়তা নিচ্ছেন।

প্রতিবেদন বলছে, এআই-নির্ভর শিক্ষামূলক কনটেন্ট এবং চ্যাটবটের ওপর মানুষের আস্থা তুলনামূলক বেশি, যা শিক্ষা ও অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কর্মক্ষেত্রে দ্রুত বাড়ছে এআইয়ের ব্যবহার

কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের হার এক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালে এ হার ৪৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬২ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে কর্মস্থলে এআই ব্যবহারকারীদের মাত্র অর্ধেক জানিয়েছেন, তাদের প্রতিষ্ঠানে এআই ব্যবহারের জন্য আনুষ্ঠানিক নীতিমালা বা কৌশল রয়েছে।

বর্তমানে সবচেয়ে বেশি এআই ব্যবহার হচ্ছে কনটেন্ট লেখা ও তৈরির কাজে। তবে প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে প্রযুক্তিটির ব্যবহার এখনো তুলনামূলক কম। প্রতিবেদনে এ বিষয়ে সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

তরুণদের মধ্যেই উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি

এআই ব্যবহারে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা তরুণরাই প্রযুক্তিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা, চাকরির নিরাপত্তা এবং এআইয়ের ওপর অতিনির্ভরতার বিষয়গুলো তাদের প্রধান উদ্বেগের কারণ।

টেলিনর এশিয়ার প্রধান ইওন ওমুন্ড রেভহগ বলেন, এআই নিয়ে আশাবাদের পাশাপাশি নিরাপদ সংযোগ ও ডিজিটাল দক্ষতা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, প্রযুক্তির সুবিধা সবার কাছে পৌঁছে দিতে এবং ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে সরকার, বেসরকারি খাত ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি বলেন, এমন একটি ডিজিটাল সমাজ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে কেউ প্রযুক্তির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে না।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন